নিউজ ডেস্ক: বাংলায় ক্ষমতার পালাবদলের পরেই এখন সবথেকে বড় আশঙ্কার মেঘ ঘনীভূত হয়েছে রাজ্যের প্রায় ৫ লক্ষ চুক্তিভিত্তিক ও থার্ডপার্টি কর্মীদের কপালে। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে গ্রুপ এ থেকে ডি— প্রতিটি স্তরে যখন স্থায়ী কর্মীর সংখ্যা কমতে কমতে ৩ লক্ষ ১৭ হাজারে ঠেকেছে, তখন এই বিশাল প্রশাসনিক কাঠামোটি মূলত দাঁড়িয়ে ছিল চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের ওপর। সোমবার ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই নবান্ন থেকে শুরু করে মহাকরণ— সর্বত্রই কর্মীদের মুখে একটাই প্রশ্ন, ‘চাকরিটা থাকবে তো?’
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার একটি নির্দেশিকা জারি করেছিল যে ৬০ বছর বয়সের আগে এই কর্মীদের কাজ থেকে সরানো যাবে না। কিন্তু নতুন সরকার আসার পর সেই অর্ডারের স্থায়িত্ব নিয়ে প্রবল সংশয় তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মঙ্গলবার সকাল থেকেই নবান্নের করিডরে চুক্তিভিত্তিক ডেটা এন্ট্রি অপারেটর, সিভিক ভলান্টিয়ার এবং অন্যান্য সহায়ক কর্মীদের জটলা করে দুশ্চিন্তা প্রকাশ করতে দেখা গিয়েছে। অনেকেরই আশঙ্কা, বিজেপি সরকার স্থায়ী নিয়োগের পথে হাঁটলে প্রথমেই কি ছাঁটাইয়ের কোপ পড়বে তাঁদের ওপর?
ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক স্তরে বড়সড় রদবদলের ইঙ্গিত মিলেছে। সূত্রের খবর, পুনর্নিযুক্ত (Re-appointed) প্রায় ৫০০ আধিকারিককে ইতিমধ্যেই মৌখিক নির্দেশে ছুটিতে যেতে বলা হয়েছে। ওএসডি (OSD) পদমর্যাদার আধিকারিকদের ক্ষেত্রেও একই নির্দেশ জারি হয়েছে। এই ঘটনাপ্রবাহ চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপগুলিতে এখন শুধুই অনিশ্চয়তার আলোচনা। এক কর্মীর কথায়, “স্থায়ী চাকরি পাব বলে আশায় ছিলাম, কিন্তু এখন তো বর্তমান কাজটুকু থাকবে কি না তা নিয়েই ভয়ে আছি।”
প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে রাজ্যের সিস্টেমটি এতটাই চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের ওপর নির্ভরশীল যে তাঁদের সরিয়ে দিলে প্রশাসনিক কাজকর্ম পুরোপুরি স্তব্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আবার ৫ লক্ষ কর্মীর রুজি-রুটির প্রশ্নটি এড়িয়ে যাওয়াও নতুন সরকারের পক্ষে সহজ হবে না। একদিকে বিপুল শূন্যপদ পূরণ এবং অন্যদিকে বর্তমান কর্মীদের সামাজিক নিরাপত্তা বজায় রাখা— এই দুইয়ের ভারসাম্যে বিজেপি সরকার কী ভূমিকা নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে কয়েক লক্ষ পরিবার।