নিউজ ডেস্ক: চিকিৎসায় গাফিলতির জেরে এক প্রসূতির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠল বর্ধমান শহরের নবাবহাট বালিঘাট মোড় এলাকা। শুক্রবার সকালে ওই এলাকার একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে ভাঙচুর চালায় উত্তেজিত জনতা। পরিস্থিতি সামাল দিতে শেষে বিশাল পুলিশ বাহিনীর পাশাপাশি নামাতে হয় কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদেরও। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত: মৃতার নাম রিজিয়া খাতুন (২৩)। তাঁর বাড়ি মঙ্গলকোট থানার আউসগ্রামে। প্রসব যন্ত্রণা নিয়ে তিনি বর্ধমানের ওই নার্সিংহোমে ভর্তি হয়েছিলেন। পরিবারের অভিযোগ, ভর্তির পর থেকেই চিকিৎসায় চূড়ান্ত গাফিলতি করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে রিজিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁর মৃত্যু হয়। খবর জানাজানি হতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিজনরা। তাঁদের দাবি, চিকিৎসকদের অপদার্থতা ও নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণেই এক তরুণী প্রাণ হারালেন।
উত্তেজনা ও ভাঙচুর: মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই রিজিয়ার গ্রাম ও পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে প্রচুর মানুষ নার্সিংহোমের সামনে জড়ো হন। শোকাতুর পরিজনদের ভিড় মুহূর্তের মধ্যে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। উত্তেজিত জনতা নার্সিংহোমের ভেতরে ঢুকে আসবাবপত্র ও জানলার কাচ ভাঙচুর করে বলে অভিযোগ। হাসপাতালের কর্মীদেরও তাড়া করা হয়। এর ফলে নার্সিংহোমে থাকা অন্য রোগী ও তাঁদের আত্মীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
প্রশাসনের তৎপরতা: খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বর্ধমান থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। কিন্তু পরিস্থিতি আয়ত্তের বাইরে যেতে থাকায় এবং এলাকাটি স্পর্শকাতর হওয়ায় সেখানে মোতায়েন করা হয় কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদেরও। পুলিশ ও আধা-সেনার যৌথ তৎপরতায় বিক্ষোভকারীদের নার্সিংহোম চত্বর থেকে বের করে দেওয়া হয়। বর্তমানে এলাকাটি পুলিশি পাহারায় রয়েছে। নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে অবশ্য গাফিলতির অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে।