নিউজ ডেস্ক: খাস কলকাতায় অ্যাপ-নির্ভর অপরাধের নয়া জাল! ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে বন্ধুত্বের টোপ দিয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষক ছাত্রকে অপহরণ করে সর্বস্ব লুটের অভিযোগ উঠল। ঘটনার জেরে ওই ছাত্রের কানের পর্দা ফেটে গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে এই কাণ্ডে জড়িত সন্দেহে মহম্মদ আফজল ও মহম্মদ আফ্রিদি নামে দুই যুবককে গ্রেফতার করেছে যাদবপুর থানার পুলিশ।
চকোলেটের প্রলোভন নয়, ডেটিং অ্যাপের ফাঁদ: পুলিশ সূত্রে খবর, অরিন্দম ঘোষ নামে ওই গবেষণারত ছাত্র যাদবপুর এলাকারই বাসিন্দা। গত ২২ তারিখ তিনি স্থানীয় একটি দোকানে চা খেতে গিয়েছিলেন। অভিযোগ, সেখান থেকে ফেরার পথে শক্তিগড় এলাকায় একটি বাইকে করে এসে তাঁকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। অরিন্দমের আইনজীবী অভিষেক হাজরা জানান, দুষ্কৃতীরা তাঁকে অপহরণ করে সায়েন্স সিটি এলাকার একটি জনহীন নির্মীয়মাণ বাড়িতে নিয়ে যায়।
পৈশাচিক নিগ্রহ ও মুক্তিপণ দাবি: অরিন্দম পুলিশকে জানিয়েছেন, ওই বাড়িতে আগে থেকেই আরও পাঁচজন ওত পেতে বসেছিল। সেখানে নিয়ে গিয়ে তাঁকে বাঁশ দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। লুটে নেওয়া হয় তাঁর সোনার চেন ও আংটি। এখানেই শেষ নয়, দুষ্কৃতীরা তাঁর কাছে দেড় লক্ষ টাকা দাবি করে এবং বাড়ি থেকে টাকা আনিয়ে দিতে বলে। পরিবার টাকা দিতে অস্বীকার করায় মারধরের মাত্রা আরও বাড়ানো হয়। যন্ত্রণায় ওই ছাত্র চিৎকার শুরু করলে ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে দুষ্কৃতীরা তাঁকে রাস্তায় ফেলে রেখে চম্পট দেয়।
তদন্তে পুলিশের সাফল্য: ঘটনার তদন্তে নেমে যাদবপুর থানার পুলিশ জানতে পারে, অরিন্দম একটি ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে এক যুবকের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। সেই সূত্র ধরেই অভিযুক্তদের মোবাইল নম্বর ট্র্যাক করা শুরু হয়। বৃহস্পতিবার রাতে গুলশান কলোনি এলাকায় হানা দিয়ে দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, ডেটিং অ্যাপকে হাতিয়ার করে এভাবেই শহরজুড়ে একটি বড়সড় অপহরণ ও লুটের চক্র সক্রিয় রয়েছে। বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি জারি রেখেছে পুলিশ।