নিউজ ডেস্ক: খাস কলকাতার অভিজাত এলাকা বালিগঞ্জে কোটি টাকার হিরে চুরির কিনারা করল লালবাজার। মালিক সপরিবারে গোয়া ভ্রমণে যাওয়ার সুযোগে আলমারি সাফ করে চম্পট দিয়েছিল পুরনো পরিচারক। তবে শেষরক্ষা হলো না। মোবাইল টাওয়ার লোকেশন ধরে বিহারের বাঁকা জেলা থেকে অভিযুক্ত সুনীল যাদবকে (৩৫) গ্রেপ্তার করল লালবাজারের অ্যান্টি বার্গলারি স্কোয়াড। উদ্ধার হয়েছে চুরি যাওয়া সোয়া কোটি টাকার হিরের গয়নাও।
চুরির নেপথ্যে বিশ্বস্ত পরিচারক: বালিগঞ্জ থানার আশুতোষ চৌধুরী অ্যাভিনিউয়ের বাসিন্দা আদিত্য ভাগচন্দকা গত ৪ এপ্রিল সপরিবারে গোয়া বেড়াতে গিয়েছিলেন। বাড়িতে ছিলেন তাঁর বৃদ্ধ বাবা-মা এবং তিন পরিচারক-পরিচারিকা। ৯ এপ্রিল বাড়ি ফিরে আদিত্যবাবু দেখেন, তাঁর শোয়ার ঘরের দেওয়াল আলমারি তছনছ করা হয়েছে। আলমারি থেকে গায়েব সোয়া কোটি টাকার হিরে বসানো সোনার গয়না। উধাও পরিচারক সুনীল যাদবও। ওই দিনই বালিগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। ঘটনার গুরুত্ব বিচার করে তদন্তভার নেয় লালবাজারের অ্যান্টি বার্গলারি স্কোয়াড।
পরিচয় ভাঁড়িয়ে কাজে যোগ: তদন্তে নেমে গোয়েন্দারা জানতে পারেন, বালিগঞ্জের ওই বাড়িতে কাজে যোগ দেওয়ার সময় নিজেকে গিরিডির বাসিন্দা বলে দাবি করেছিল সুনীল। তবে একটি মোবাইল নম্বর ছাড়া আধার বা ভোটার কার্ডের মতো কোনও সচিত্র পরিচয়পত্র সে জমা দেয়নি। সেই একমাত্র সম্বল মোবাইল নম্বরটিকেই হাতিয়ার করেন গোয়েন্দারা। টানা নজরদারি চালানোর পর দেখা যায়, বিহারের বাঁকা জেলার আমনপুর থানা এলাকায় সুনীলের মোবাইলটি সক্রিয় রয়েছে। এর পরেই লালবাজারের গোয়েন্দারা বিহারে হানা দেন।
উদ্ধার সোয়া কোটির গয়না: স্থানীয় পুলিশের সাহায্যে বৃহস্পতিবার রাতে সুনীলকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে জেরা করতেই বেরিয়ে আসে লুট করা গয়নার হদিশ। উদ্ধার হয় ১.২৫ কোটি টাকা মূল্যের সমস্ত হিরের গয়না। ধৃতকে ট্রানজিট রিমান্ডে কলকাতায় নিয়ে এসে শুক্রবার আলিপুর আদালতে হাজির করানো হয়। বিচারক তাকে ২ মে পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। এই ঘটনার পর ফের একবার বাড়ির পরিচারকদের পরিচয় যাচাই ও সচিত্র পরিচয়পত্র জমা রাখার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সরব হয়েছে পুলিশ।