নিউজ ডেস্ক: ভোটের ময়দানে পুলিশ পর্যবেক্ষকের ভূমিকা নিয়ে সংঘাত এবার গড়াল আদালত পর্যন্ত। ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের পুলিশ পর্যবেক্ষক পি এস পুরুষোত্তম দাসের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। সেই মামলার প্রেক্ষিতেই শুক্রবার কড়া নির্দেশ দিলেন বিচারপতি কৃষ্ণা রাও। তৃণমূলের অভিযোগের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন কেন এখনও কোনও উত্তর দেয়নি, তা আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লিখিতভাবে আদালতকে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগের মূলে গোপন বৈঠক: তৃণমূলের আইনজীবী মৈনাক বসু আদালতে অভিযোগ করেন, গত ২১ এপ্রিল তাঁরা বিষয়টি কমিশনকে জানিয়েছিলেন। তাঁদের দাবি, মগরাহাট পশ্চিমের বিজেপি প্রার্থী গৌর ঘোষ এবং ডায়মন্ড হারবারের বিজেপি প্রার্থী দীপক হালদারের সঙ্গে একটি হোটেলে গোপন বৈঠক করেছিলেন ওই পর্যবেক্ষক। শাসকদলের অভিযোগ, এই ধরনের আচরণ অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পরিপন্থী। কিন্তু কমিশনে লিখিত নালিশ জানানো সত্ত্বেও কোনও সদুত্তর মেলেনি।
কমিশনের পাল্টা সওয়াল: পাল্টা সওয়ালে কমিশনের আইনজীবী জিষ্ণু সাহা পর্যবেক্ষকদের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “পর্যবেক্ষকরা হলেন কমিশনের চোখ ও কান। পরিস্থিতি বুঝতে রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে তাঁদের কথা বলতেই হয়।” কমিশনের দাবি, বৈঠকটি কোনও গোপন স্থানে নয়, বরং নির্ধারিত স্থানেই হয়েছিল এবং সেখানে সিসিটিভি ক্যামেরা ছিল। এমনকি, কমিশনের আইনজীবী কটাক্ষ করে বলেন, “কেউ রঙিন চশমা পরে থাকলে পৃথিবীটা রঙিনই মনে হয়।” ওই হোটেলে কমিশনের অন্য কর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন বলে আদালতকে জানানো হয়।
হাইকোর্টের কড়া নির্দেশ: উভয় পক্ষের সওয়াল শোনার পর বিচারপতি কৃষ্ণা রাও নির্দেশ দেন, তৃণমূল কংগ্রেসের তোলা অভিযোগের প্রেক্ষিতে কমিশনের অবস্থান কী, তা স্পষ্ট করতে হবে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কমিশনকে তাদের লিখিত জবাব আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই পর্যবেক্ষককে সরানো হবে কি না, তা নির্ভর করছে কমিশনের উত্তরের ওপর। ভোটের আবহে এই আইনি লড়াইকে কেন্দ্র করে ডায়মন্ড হারবার সংলগ্ন এলাকাগুলিতে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।