নিউজ ডেস্ক: বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের রাজনৈতিক মানচিত্র দ্রুত বদলাতে শুরু করেছে। অন্য এক ছবি ধরা পড়ছে বিভিন্ন জেলায়। তৃণমূলের হাতে হারানো নিজেদের পুরনো পার্টি অফিসগুলি ‘পুনরুদ্ধার’ করতে শুরু করেছে সিপিএম। বাম নেতাদের দাবি, “এসব অফিস আমাদেরই ছিল, তৃণমূল জোর করে দখল করেছিল। এখন শুধু সেগুলি ফিরে পাওয়া গিয়েছে।”
পার্টি অফিস পুনরুদ্ধারের হিড়িক
নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যের একাধিক জায়গায় লাল ঝান্ডা উড়তে দেখা যাচ্ছে:
-
বারুইপুর: মঙ্গলবার বারুইপুর কাছাড়ি বাজারের একটি পার্টি অফিস ১৩ বছর পর পুনরুদ্ধার করেছে সিপিএম। ১৯৮৩ সালে তৈরি হওয়া এই অফিসে আবার লাল পতাকা ওড়ানো হয়েছে।
-
যাদবপুর: সম্মিলনী পার্কের ডি ব্লকের পার্টি অফিসেও একইভাবে নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেয়েছে বামেরা।
-
অন্যান্য এলাকা: চোপড়া, বামনগাছি, হাড়োয়া, ক্যানিং সহ বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হারানো কার্যালয় ফিরে পাওয়ার খবর আসছে।
শিক্ষাঙ্গনে এসএফআই-এর সক্রিয়তা
শুধু পার্টি অফিস নয়, বিভিন্ন কলেজেও ছাত্র সংগঠন এসএফআই (SFI) শ্বেত পতাকা টাঙিয়ে নিজেদের উপস্থিত জানান দিচ্ছে। উলুবেড়িয়া কলেজ, গুরুদাস কলেজ এবং বিজয়গড় কলেজের মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে এই চিত্র দেখা গিয়েছে।
হিংসা ও বামেদের প্রতিবাদ
তবে সব জায়গায় পরিস্থিতি অনুকূল নয়। বেশ কিছু জায়গায় বামেদের ওপর আক্রমণের ঘটনাও ঘটেছে:
-
যাদবপুরে লেনিন মূর্তিতে গেরুয়া আবির লাগানো এবং মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জে লেনিন মূর্তি ভাঙার অভিযোগ উঠেছে।
-
ডোমকলে এক সিপিএম কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
-
এইসব ঘটনার প্রতিবাদে এবং রাজ্যে শান্তি বজায় রাখার দাবিতে আগামী শুক্রবার কলকাতায় মিছিলের ডাক দিয়েছে বামফ্রন্ট।
রাজনৈতিক মহলের বিশ্লেষণ
বিধানসভায় মাত্র একটি আসন (ডোমকল) পেয়েও সিপিএমের এই হঠাৎ সক্রিয়তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। বিজেপির উত্থান নাকি তৃণমূলের ক্ষমতাচ্যুতি— কোন সমীকরণে বামেরা এই ‘অক্সিজেন’ পাচ্ছে, তা নিয়ে চর্চা তুঙ্গে।
সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী এই প্রসঙ্গে বলেন, “তৃণমূল হারতেই সাধারণ মানুষ জেগে উঠেছে। মানুষ অত্যন্ত বিরক্ত ছিল। আমরা কোনও অফিস দখল করছি না, আমাদের কর্মীরা সেগুলি পুনরুদ্ধার করছেন। তবে ফল প্রকাশের পর যা ঘটছে তা কাম্য নয়, শান্তি বজায় রাখা উচিত।”