নিউজ ডেস্ক: ২০১৩ সালে ২৩৩ বছরের ঐতিহ্যবাহী রাইটার্স বিল্ডিং থেকে প্রশাসনের সদর দপ্তর হাওড়ার নবান্নে সরিয়ে এনেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দীর্ঘ ১৩ বছর পর রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সেই প্রশাসনিক স্পন্দন আবারও ফিরে যাচ্ছে লাল ইটের অলিন্দে। নবান্নের এই বিদায়বেলায় হাওড়ার মন্দিরতলা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে এক মিশ্র প্রতিক্রিয়া— যেখানে একদিকে রয়েছে ব্যবসা হারানোর অনিশ্চয়তা, অন্যদিকে রয়েছে নিত্যদিনের কড়া বিধিনিষেধ থেকে মুক্তির স্বস্তি।
নিরাপত্তা ও ব্যবসার অনিশ্চয়তা: নবান্নকে কেন্দ্র করে গত এক দশকে মন্দিরতলা সংলগ্ন ওঙ্কারমাল জেটিয়া রোড ও আশপাশের এলাকায় গড়ে উঠেছিল এক বিশেষ অর্থনৈতিক বলয়।
-
খাবারের দোকান ও রেস্তরাঁ: নবান্নের কর্মীরা ক্যান্টিন ছেড়ে স্থানীয় রেস্তরাঁ ও চায়ের দোকানে ভিড় জমাতেন। সচিবালয় সরে গেলে এই উপচে পড়া ভিড় আর থাকবে না বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
-
নিরাপত্তার অভাব: এলাকাটি ‘হাই-সিকিউরিটি জোন’ থাকায় স্থানীয়রা এক ধরণের নিরাপত্তায় অভ্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন, যা এখন হারানোর ভয় কাজ করছে অনেকের মনে।
নিত্যদিনের ভোগান্তি থেকে মুক্তি: অন্যদিকে, বলাই মিস্ত্রি লেন, ক্ষেত্র ব্যানার্জি লেন বা শরৎ চ্যাটার্জি রোডের বাসিন্দাদের একটি বড় অংশ এই সিদ্ধান্তে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন।
-
আন্দোলন ও লকডাউন: ‘নবান্ন অভিযান’ বা রাজনৈতিক কর্মসূচির সময় গোটা এলাকা ব্যারিকেডে ঘিরে ফেলা হতো, যার ফলে অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়াও কঠিন হয়ে পড়ত।
-
নির্মাণে বিধিনিষেধ: নবান্নের নিরাপত্তার কারণে বাসিন্দারা ছাদে ওঠা বা বাড়ির সামান্য মেরামতের ক্ষেত্রেও বাধার মুখে পড়তেন। এমনকি বৈধভাবে তিনতলার উপরে ঘর তৈরির আবেদনও নিরাপত্তার অজুহাতে খারিজ হয়ে যেত।
কর্মীদের প্রতিক্রিয়া: শুধু সাধারণ মানুষই নন, নবান্নের অনেক কর্মীও সচিবালয় রাইটার্সে ফিরে যাওয়ার খবরে খুশি। তাঁদের মতে, শিয়ালদহ থেকে রাইটার্স যাওয়া যতটা সহজ ছিল, হাওড়া আসার ক্ষেত্রে সময় ও যাতায়াত খরচ দুইই বেশি হতো।
দীর্ঘ ১৩ বছরের এক ব্যস্ত অধ্যায়ের অবসান ঘটিয়ে নবান্ন এখন বিদায়লগ্নে। হাওড়ার বুক থেকে প্রশাসনের ঠিকানা মুছে গেলেও থেকে যাচ্ছে এক দশকেরও বেশি সময়ের নস্টালজিয়া আর বদলে যাওয়া জীবনযাত্রার স্মৃতি।