নিউজ ডেস্ক: নির্বাচন দোরগোড়ায়, তার আগেই নজিরবিহীন এক বিপত্তিতে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। প্রিসাইডিং অফিসার থেকে শুরু করে পোলিং অফিসার— গোটা পোলিং পার্টির নাম, মোবাইল নম্বর এমনকি কর্মক্ষেত্রের যাবতীয় গোপন তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠল। বিশেষ করে মহিলা ভোটকর্মীদের ব্যক্তিগত তথ্য সমাজমাধ্যমে প্রকাশ হয়ে পড়ায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন হাজার হাজার সরকারি কর্মী। এই ঘটনার প্রতিকার চেয়ে ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে একাধিক শিক্ষক ও শিক্ষা-কর্মী সংগঠন।
দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার প্রায় ৮৭০ পাতার একটি নথি বর্তমানে সমাজমাধ্যমে ঘুরপাক খাচ্ছে। সেই নথিতে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে কোন ভোটকর্মী কোথায় থাকেন, তাঁর পেশা কী এবং কোন বিধানসভা কেন্দ্রে তাঁর ডিউটি পড়েছে। এমনকি ব্যক্তিগত ফোন নম্বরটিও সেখানে প্রকাশ করে দেওয়া হয়েছে। শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক কিঙ্কর অধিকারীর দাবি, এই ধরণের স্পর্শকাতর তথ্য জনসমক্ষে না আনার জন্য আগে কলকাতা হাইকোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ ছিল। তা সত্ত্বেও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটায় কমিশনের গাফিলতি নিয়েই প্রশ্ন উঠছে। অন্যদিকে, শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী বিএলও ডিউটি প্রতিরোধ মঞ্চের আহ্বায়ক অনিমেষ হালদারের আশঙ্কা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ‘থিঙ্ক ট্যাঙ্ক’ বা সংগঠনগুলি এই তথ্য হাতে পেয়ে ভোটকর্মীদের ওপর প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করতে পারে। ভয় দেখানো বা প্রলোভনের মাধ্যমে সুষ্ঠু নির্বাচন প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না তিনি।
তথ্য ফাঁসের পাশাপাশি মহিলা ভোটকর্মীদের নিরাপত্তা ও দূরবর্তী বদলি নিয়ে ক্ষোভের আগুন ছড়িয়েছে। অভিযোগ, কমিশনের নিজস্ব গাইডলাইন অমান্য করে বহু মহিলা কর্মীকে বাড়ি থেকে ১০০-১২০ কিলোমিটার দূরে ডিউটি দেওয়া হয়েছে। কিঙ্কর অধিকারীর বক্তব্য অনুযায়ী, নিয়ম মাফিক মহিলা কর্মীদের বাড়ির কাছাকাছি কেন্দ্রে ডিউটি দেওয়ার কথা থাকলেও এবার তা মানা হয়নি। এমনকি তাঁদের থাকার জায়গাও আগেভাগে জানানো হচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে পুরুষ সহকর্মীদের সঙ্গে একই ভবনে মহিলাদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই সামগ্রিক পরিস্থিতিতে কমিশনের ভূমিকা নিয়ে এখন শিক্ষা মহলে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।