নিউজ ডেস্ক: অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সুনিশ্চিত করতে এ বার কোমর বেঁধে ময়দানে নামল প্রশাসন। উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন প্রান্তে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে পুলিশের নজিরবিহীন তৎপরতা তুঙ্গে। একদিকে উত্তর ২৪ পরগনার একদা উত্তপ্ত এলাকা হিসেবে পরিচিত শাসনে চলছে স্নিফার ডগ ও বম্ব স্কোয়াড নিয়ে চিরুনি তল্লাশি, অন্যদিকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুর ও নরেন্দ্রপুরে খোদ জেলাশাসক ও পুলিশ সুপার গ্রামে গ্রামে ঘুরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে আস্থার সঞ্চার করছেন।
নির্বাচন এলেই উত্তর ২৪ পরগনার শাসন এলাকা ঘিরে অশান্তির মেঘ ঘনীভূত হতো। তবে এবার সেই ছবি বদলাতে মরিয়া কমিশন। শাসন থানার আইসি আসিফ সানির নেতৃত্বে আষাড়ু, তেহাট্টা, সন্ডালিয়া-সহ বিভিন্ন গ্রামে তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছে। কেবল রুট মার্চেই ক্ষান্ত না থেকে পুলিশ কুকুর এবং বম্ব স্কোয়াডের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে প্রতিটি ঝোপঝাড় ও সন্দেহজনক এলাকা পরীক্ষা করা হচ্ছে। তেহাট্টার বাসিন্দা আলাউদ্দিন মোল্লার কথায়, “আগেও কেন্দ্রীয় বাহিনী দেখেছি, কিন্তু এভাবে ডগ স্কোয়াড নিয়ে তল্লাশি আগে দেখিনি।” শাসনের সাধারণ মানুষের মতে, বোমাবাজি বা হিংসার যে দুর্নাম এলাকার ছিল, প্রশাসনের এই অতি-সক্রিয়তা সেই ভীতি অনেকটাই কাটিয়ে দিচ্ছে।
দক্ষিণ ২৪ পরগনাতেও ছবিটা একই রকম তৎপরতার। মঙ্গলবার বিকেলে সোনারপুর থানার প্রতাপনগর পঞ্চায়েতের মেটিয়ারি, শাঙ্গুর ও কুষ্টিয়া গ্রামে সশরীরে পৌঁছে যান জেলাশাসক অভিষেক তিওয়ারি ও বারুইপুর পুলিশ জেলার সুপার শুভেন্দ্র কুমার। কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে তাঁরা গ্রামবাসীর দুয়ারে গিয়ে জানতে চান, কেউ তাঁদের ভয় দেখাচ্ছে কি না বা অতীতে কোনও অপ্রীতিকর অভিজ্ঞতা হয়েছে কি না। মাঠের ধারে আড্ডারত মহিলাদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের নির্ভয়ে ভোটদানে উৎসাহিত করেন প্রশাসনিক কর্তারা। ২০২১-এর ভোট পরবর্তী হিংসার স্মৃতি কারও কারও মনে থাকলেও, প্রশাসনের এই নিবিড় জনসংযোগ তাঁদের মনোবল বাড়াচ্ছে।
সোনারপুর থেকে শুরু করে নরেন্দ্রপুর পর্যন্ত বিস্তৃত এই সফরে জেলাশাসক নিজে কয়েকটি বুথের পরিকাঠামো খতিয়ে দেখেন। গোলমাল ঠেকাতে পুলিশের পক্ষ থেকে ভোটারদের হাতে বিশেষ ফোন নম্বরও তুলে দেওয়া হয়। পুলিশ সুপার আশ্বাস দিয়েছেন, কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে বা কেউ হুমকি দিলে ওই নম্বরে ফোন করা মাত্রই তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা নেবে পুলিশ। প্রশাসনের এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি সাধারণ ভোটারদের মনে গণতন্ত্রের উৎসবে শামিল হওয়ার বাড়তি সাহস জোগাচ্ছে।