নিউজ ডেস্ক: নির্বাচনী বৈতরণী পার করতে ক্ষমতার অপব্যবহার রুখতে এ বার আরও কঠোর অবস্থান নিল নির্বাচন কমিশন। মঙ্গলবার এক নজিরবিহীন নির্দেশিকায় সাফ জানানো হয়েছে, কোনও অবস্থাতেই পুলিশের সরকারি গাড়িতে নগদ টাকা বহন করা যাবে না। পুলিশ কমিশনারের এই লিখিত নির্দেশিকা ইতিমধ্যেই লালবাজারের প্রতিটি ইউনিটের শীর্ষ কর্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। কমিশনের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, নিয়ম লঙ্ঘন করে পুলিশের গাড়িতে টাকা নিয়ে যাওয়ার সময় কেউ ধরা পড়লে সরাসরি শ্রীঘরে যেতে হবে তাঁকে। এই নির্দেশিকাকে কেন্দ্র করে রাজ্য পুলিশ মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
ভোটের মুখে নগদ পরিবহণের পাশাপাশি প্রভাবশালীদের নিরাপত্তা দেওয়ার ক্ষেত্রেও কড়া নজরদারি শুরু করেছে কমিশন। কমিশনের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে যে, স্বরাষ্ট্রসচিব, আইজি, ডিআইজি কিংবা পুলিশ সুপারের মতো উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের অজান্তেই অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় থানার ওসি-রা প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তিকে বেআইনিভাবে পুলিশি নিরাপত্তা দিচ্ছেন। এই ধরণের ‘বেআইনি’ কাজকে শৃঙ্খলাভঙ্গ হিসেবে গণ্য করে সংশ্লিষ্ট ওসি-দের চিহ্নিত করার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। তাঁদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হচ্ছে।
কমিশনের এই কড়াকড়িকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাপানউতোর শুরু হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস এই নির্দেশিকার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে পালটা রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনেছে। শাসক দলের দাবি, বিজেপি নেতা অর্জুন সিংয়ের বিরুদ্ধে শ’খানেক মামলা থাকা সত্ত্বেও তিনি উচ্চমানের কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা ভোগ করছেন। এমনকি সদ্য জেল থেকে ফেরা বিজেপি প্রার্থী রাকেশ সিংয়ের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে তারা। শাসক শিবিরের প্রশ্ন, কেবল রাজ্য পুলিশের ওপর নজরদারি না চালিয়ে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও কেন একই ধরণের স্বচ্ছতা বজায় রাখা হচ্ছে না? সব মিলিয়ে ভোটের আবহে পুলিশের গাড়ি ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত এই নির্দেশিকা এখন রাজ্য রাজনীতির নয়া কেন্দ্রবিন্দু।