নিউজ ডেস্ক: দ্বিতীয় দফার ভোটের মাত্র চারদিন আগে ফের রাজ্যে কেন্দ্রীয় এজেন্সির বড়সড় তৎপরতা। গম পাচার মামলার তদন্তে শনিবার সকাল থেকে কলকাতা ও উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়া সহ মোট ৯টি জায়গায় ম্যারাথন তল্লাশি চালাল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। দিনভর অভিযানে আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথি বাজেয়াপ্ত করেছেন তদন্তকারীরা। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ীকে তলব করা হয়েছে।
কোভিড কালের কেলেঙ্কারি: ঘটনার সূত্রপাত ২০২০ সালে, কোভিডের ভয়াবহ আবহের মধ্যে। ঘোজাডাঙা সীমান্তে সে সময় ১৭১টি গম বোঝাই ট্রাক আটক করা হয়েছিল। তদন্তে জানা যায়, খাদ্য দপ্তর থেকে ওই গম বিভিন্ন ফ্লাওয়ার মিলে পাঠানো হয়েছিল আটা তৈরির জন্য, যা রেশনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই সরকারি গম রেশনে না গিয়ে ট্রাক বোঝাই হয়ে সোজা বাংলাদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছিল। শুল্ক দপ্তরের প্রাথমিক মামলার ভিত্তিতে পরবর্তীতে তদন্তভার গ্রহণ করে ইডি।
ব্যবসায়ীদের যোগ ও বিপুল সম্পত্তি: তদন্তকারীদের দাবি, কলকাতা ও হাবড়ার একদল প্রভাবশালী ব্যবসায়ী এই পাচার চক্রের মাস্টারমাইন্ড। রেশনের গম পাচার করে গত কয়েক বছরে তাঁরা বিপুল অঙ্কের কালো টাকা রোজগার করেছেন এবং সেই টাকা বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছেন। শনিবার মূলত সেই সব ব্যবসায়ীদের বাড়ি ও অফিসে হানা দেয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। তল্লাশিতে মিলেছে সন্দেহজনক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের হদিস এবং সম্পত্তির দস্তাবেজ।
ভোটের মুখে তপ্ত রাজনীতি: ভোটের মুখে এই ইডি হানা ঘিরে যথারীতি রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। বিরোধীদের দাবি, রেশনের চাল-গমেও যে চুরির পাহাড় তৈরি হয়েছে, ইডির এই হানা তারই প্রমাণ। পাল্টা শাসক শিবিরের দাবি, নির্বাচনের ঠিক আগে জনমানসে বিভ্রান্তি ছড়াতে কেন্দ্রীয় সংস্থাকে ব্যবহার করছে বিজেপি। যদিও ইডি সূত্রে খবর, পাচার হওয়া গমের পরিমাণের তুলনায় বাজেয়াপ্ত নথিতে বিপুল গরমিল দেখা যাচ্ছে, যা আগামী দিনে আরও বড় কোনও গ্রেপ্তারি বা রাঘববোয়ালদের হদিস দিতে পারে।