নিউজ ডেস্ক: প্রথম দফার ভোট মিটতেই ইভিএমে (EVM) কারচুপির আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শাসক-বিরোধী উভয় পক্ষ থেকেই মেশিনের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। তবে শনিবার সমস্ত জল্পনা ও আশঙ্কায় জল ঢেলে দিলেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) মনোজ আগরওয়াল। সাফ জানালেন, এবারই প্রথম বাংলার ইভিএমে বসানো হয়েছে ‘জিপিএস ট্র্যাকার’। ফলে ভোটযন্ত্রের অবস্থান ও নিরাপত্তা নিয়ে বিন্দুমাত্র সংশয়ের অবকাশ নেই।
নিরাপত্তায় নয়া কবচ: শনিবার দ্বিতীয় দফার ভোট প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে আরামবাগে গিয়েছিলেন সিইও মনোজ আগরওয়াল। সেখানে পুলিশ অবজার্ভার ও প্রশাসনিক আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠকের পর তিনি জানান, ইভিএমের নিরাপত্তা নিয়ে যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে তা ভিত্তিহীন। তাঁর কথায়, “আগে অন্যান্য রাজ্যে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হতো। এবার প্রথম বাংলায় ইভিএমে জিপিএস ট্র্যাকার রাখা হয়েছে। স্ট্রং রুমে পৌঁছানো পর্যন্ত প্রতিটি মেশিনের গতিবিধি মুহূর্তের মধ্যে ট্র্যাক করা সম্ভব।” এর ফলে কোনওভাবেই মেশিন বদল বা কারচুপির সুযোগ থাকছে না।
শান্তিপূর্ণ প্রথম দফা, হবে না পুনর্নির্বাচন: কমিশন সূত্রে জানানো হয়েছে, প্রথম দফার ভোট মোটের ওপর শান্তিপূর্ণ হয়েছে। বুথের ১০০ মিটারের মধ্যে কোনও বড় অশান্তি বা ভোট প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ার খবর নেই। সেই কারণেই এই দফায় কোনও বুথেই পুনর্নির্বাচন (Re-poll) করানোর প্রয়োজন নেই বলে স্পষ্ট করে দিয়েছে কমিশন। তবে রিজার্ভ ইভিএম এবং বুথের আলো নিয়ে কিছু অভিযোগ এসেছিল, যার সমাধান দ্রুত করা হয়েছে বলে জানান মনোজ আগরওয়াল।
নজরে দ্বিতীয় দফার ‘হেভিওয়েট’ কেন্দ্র: আগামী ২৯ এপ্রিল রাজ্যের দ্বিতীয় দফার নির্বাচন। কলকাতা সহ একাধিক হাই-প্রোফাইল কেন্দ্রে ভোট রয়েছে ওই দিন। দ্বিতীয় দফাও যাতে প্রথম দফার মতোই নির্বিঘ্ন হয়, তার জন্য জেলাগুলির পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখছেন সিইও। আরামবাগের বৈঠক থেকে সব রাজনৈতিক দলকে আশ্বস্ত করে তিনি জানিয়েছেন, ভোটারদের নিরাপত্তা ও অবাধ নির্বাচন সুনিশ্চিত করতে কমিশন বদ্ধপরিকর। জিপিএস ট্র্যাকিংয়ের অন্তর্ভুক্তি ইভিএম নিয়ে ভোটারদের মনে আত্মবিশ্বাস আরও বাড়াবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।