নিউজ ডেস্ক: রোগী হাসপাতালে পৌঁছনোর আগেই ফোনে চলে এল মৃত্যু শংসাপত্র! নাড়ির গতি পরীক্ষা করা তো দূর অস্ত, সশরীরে উপস্থিত না থেকেই কেবল হোয়াটসঅ্যাপে ‘ডেথ সার্টিফিকেট’ পাঠিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠল এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। তারকেশ্বরের এক বেসরকারি নার্সিংহোমে চিকিৎসাধীন এক গৃহবধূর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শোরগোল পড়ে গিয়েছে হুগলিতে। এই ঘটনায় মৃতার স্বামী, নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ এবং ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে পরিবার।
মৃতার নাম পৌলোমী চক্রবর্তী (২৪)। তাঁর বাপের বাড়ি হরিপালের জেজুর গ্রামে। পাঁচ বছর আগে চণ্ডীতলার মশাটের বাসিন্দা শুভাশিস চক্রবর্তীর সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল। গত ৫ মার্চ শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে তারকেশ্বরের লোকনাথ এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে পৌলোমীকে ভর্তি করেন তাঁর স্বামী। পরিবারের দাবি, ৬ মার্চ শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে অন্যত্র স্থানান্তরের তোড়জোড় শুরু হয়। কিন্তু ওই রাতেই স্বামী শুভাশিস জানান, হাওড়ার একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে মৃত্যু হয়েছে পৌলোমীর।
রহস্যের দানা বাঁধে ঠিক এর পরেই। অভিযোগ, পৌলোমীর দেহ হরিপাল গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই শুভাশিসের পূর্ব পরিচিত চিকিৎসক ত্রিদিব প্রতিহার হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে মৃত্যু শংসাপত্র পাঠিয়ে দেন। এমনকি ওই শংসাপত্রটি সংশ্লিষ্ট নার্সিংহোমের লেটারপ্যাডে লেখা ছিল বলেও অভিযোগ। সরকারি হাসপাতালে দেহ নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা দেখেন, আগেভাগেই ডেথ সার্টিফিকেট ইস্যু করা রয়েছে, তাই তাঁরা দেহটি ফিরিয়ে দেন। এতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন পরিজনেরা।
শনিবার দেহ আটকে রেখে ওই বেসরকারি নার্সিংহোমের সামনে বিক্ষোভ দেখান গ্রামবাসীরা। তাঁদের দাবি, স্বামী, চিকিৎসক এবং নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের যোগসাজশেই এই মৃত্যু ঘটেছে। কেন সশরীরে উপস্থিত না থেকে এক জন চিকিৎসক শংসাপত্র দিলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যদিও নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের দাবি, তাদের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তারকেশ্বর থানার পুলিশ ওই চিকিৎসকের পাঠানো শংসাপত্রটি বাতিল করে দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। ঘটনার গভীরে পৌঁছতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।