নিউজ ডেস্ক: পূর্ব বর্ধমানের কেতুগ্রামের জাগ্রত সতীপীঠ অট্টহাস মন্দির চত্বরে চাঞ্চল্য। সতীপীঠের মূল মন্দির সংলগ্ন রটন্তী কালী মন্দিরের তালা ভেঙে দেবীর গা থেকে সোনার গয়না ও রুপোর অলঙ্কার লুঠ করে পালাল দুষ্কৃতীরা। কেবল তাই নয়, মন্দিরের গর্ভগৃহে থাকা প্রণামীর বাক্স ভেঙে টাকাপয়সাও নিয়ে চম্পট দিয়েছে তারা। মন্দির চত্বরে পুলিশ ক্যাম্প এবং সিসিটিভি (CCTV) নজরদারি থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এই দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে, তদন্ত শুরু করেছে কেতুগ্রাম থানার পুলিশ।
পরিকল্পিত লুঠ ও সিসিটিভিতে কাদা:
রিপোর্ট মোতাবেক, গত মঙ্গলবার রাতে নিত্যপুজোর পর পুরোহিত মন্দিরের মূল গেটে তালা দিয়ে চলে যান। বাইরে নিরাপত্তারক্ষীরা পাহারায় ছিলেন। বুধবার সকালে মন্দিরের এক কর্মী এসে দেখেন, মন্দিরের তালা ভাঙা এবং গর্ভগৃহ লন্ডভন্ড। আশ্চর্যের বিষয় হলো, দুষ্কৃতীরা চুরির আগে মন্দিরের সিসিটিভি ক্যামেরাগুলিতে কাদা লেপে দিয়েছিল, যাতে তাদের পরিচয় ধরা না পড়ে। এতেই স্পষ্ট, চোরেরা অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে এই কাজ করেছে। পুলিশের অনুমান, সতীপীঠ লাগোয়া পেছনের মাঠ দিয়ে জঙ্গলের ভেতরের রাস্তা ধরে দুষ্কৃতীরা মন্দিরে ঢুকেছিল।
লাখ টাকার সম্পদ গায়েব:
মন্দিরের সেবক রামজি মহারাজ জানিয়েছেন, “কালী মূর্তির মাথায় থাকা একটি রুপোর মুকুট, পায়ের রুপোর তোড়া এবং গলার সোনার চেন চুরি হয়েছে। এছাড়া প্রণামী বাক্সে বেশ কিছু টাকা ছিল, তাও নিয়ে পালিয়েছে চোরেরা।” প্রণামীর বাক্সটি ভাঙা অবস্থায় পাশের জঙ্গলে পড়ে থাকতে দেখা যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, লুঠ হওয়া অলঙ্কারের বাজারমূল্য লক্ষাধিক টাকা। কেতুগ্রাম থানায় মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
নিরাপত্তা নিয়ে ক্ষোভ:
অট্টহাস সতীপীঠ অত্যন্ত জাগ্রত মন্দির হিসেবে পরিচিত। দূরদূরান্ত থেকে ভক্তরা এখানে পুজো দিতে আসেন। মন্দির চত্বরে সর্বক্ষণ পুলিশ ও নিরাপত্তারক্ষীরা থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এই চুরি সম্ভব হলো, তা নিয়ে ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা। এক বাসিন্দা প্রশ্ন তোলেন, “চোরেদের কি ধর্মের ভয়ও নেই?” অপর এক বাসিন্দা বলেন, “মন্দিরের ভেতর ক্যামেরা এবং পুলিশের নিরাপত্তা থাকা সত্ত্বেও যদি চুরি হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশাসন কী ভাবছে?” পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং চুরির ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে।