নিউজ ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের দাবানল এবার সরাসরি আঘাত হেনেছে বিশ্বের তেলের ‘ধমনী’ হিসেবে পরিচিত হরমুজ় প্রণালীতে। ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথে জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করতেই বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সঙ্কটের কালো মেঘ ঘনীভূত হয়েছে। কিন্তু সেই কূটনীতির দাবার চালে অসাধ্য সাধন করল নয়াদিল্লি। খোদ বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের তৎপরতায় ইরানের থেকে বিশেষ ‘সেফ প্যাসেজ’ বা নিরাপদ যাতায়াতের অনুমতি পেল ভারতীয় ভেসেল।
সাউথ ব্লক সূত্রে খবর, হরমুজ় সঙ্কটের জেরে ভারতের জ্বালানি আমদানিতে টান পড়ার উপক্রম হয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে চার-চারবার ফোনে কথা বলেন জয়শঙ্কর। দীর্ঘ আলোচনার পর তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ভারতীয় জাহাজগুলোর জন্য এই পথ সম্পূর্ণ নিরাপদ। ইরান ভারতকে ‘প্রকৃত বন্ধু’ হিসেবেই দেখে, আর সেই বন্ধুত্বের খাতিরেই এই বিশেষ ছাড়।
বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর নিজেই এই সাফল্যের কথা জানিয়ে বলেছেন, “ইরানের সঙ্গে সরাসরি কূটনৈতিক যোগাযোগের ফলেই এই ইতিবাচক ফল মিলেছে।” তবে ইরানের সঙ্গে ভারতের কি কোনও গোপন চুক্তি হয়েছে? এই জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে বিদেশমন্ত্রী সাফ জানিয়েছেন, কোনও সার্বিক বা ‘ব্ল্যাঙ্কেট অ্যারেঞ্জমেন্ট’ (Blanket Arrangement) হয়নি। প্রতিটি জাহাজের ক্ষেত্রে আলাদা আলাদা ভাবে কথা বলে অনুমতি নেওয়া হচ্ছে। এর বিনিময়ে ইরানকে ভারত কিছুই দেয়নি, পুরোটাই দাঁড়িয়ে আছে দীর্ঘদিনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর। জয়শঙ্করের কথায়, “এটি কোনও বিনিময়ের বিষয় নয়। ভারত এবং ইরানের মধ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে।”
শনিবারই এই সফল কূটনীতির সুফল হাতেনাতে মিলেছে। প্রায় ৯২,৭১২ মেট্রিক টন এলপিজি (LPG) বোঝাই দুই ভারতীয় জাহাজ ‘শিবালিক’ ও ‘নন্দা’ নিরাপদেই হরমুজ় প্রণালী পার করেছে। বিশ্ব যখন জ্বালানির লাইফলাইন বন্ধ হওয়ার ভয়ে কাঁপছে, তখন ভারতের এই ‘সেফ প্যাসেজ’ আদায় করাকে বড় জয় হিসেবেই দেখছে আন্তর্জাতিক মহল। তবে জয়শঙ্কর জানিয়েছেন, এখনও বেশ কিছু জাহাজ হরমুজ়ে আটকে রয়েছে। সেগুলিকে পার করানোর জন্য ইরানের সঙ্গে সাউথ ব্লকের আলোচনা নিরন্তর চলছে।