নিউজ ডেস্ক: সকাল ৮টা বাজার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই আইআরসিটিসি (IRCTC)-র সার্ভার স্তব্ধ হয়ে যাওয়া কিংবা নিমেষের মধ্যে সব টিকিট ‘রিগ্রেট’ হয়ে যাওয়ার দিন বোধহয় এবার শেষ হতে চলেছে। গত চার দশক ধরে চলা রেলের পুরোনো টিকিট বুকিং সফটওয়্যার ইন্টারফেসকে আমূল বদলে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতীয় রেল। যাত্রীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল, বর্তমান সিস্টেম অত্যন্ত ধীরগতিসম্পন্ন এবং অসাধু এজেন্টদের ‘বট’ বা অটোমেটেড অ্যাপের কাছে সাধারণ মানুষ কার্যত অসহায়। এই ব্যবস্থার খোলনলচে বদলে ফেলতে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা খরচ করে নতুন ‘প্যাসেঞ্জার রিজার্ভেশন সিস্টেম’ (PRS) সাজাচ্ছে রেল।
রেলের অনলাইন টিকেটিং ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা ‘সেন্টার ফর রেলওয়ে ইনফরমেশন সিস্টেমস’ (CRIS)-এর পদস্থ আধিকারিকরা জানিয়েছেন, আগামী এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যেই এই নতুন ইন্টারফেস চালু হয়ে যাবে। বর্তমানে মিনিটে ২৫ হাজার টিকিট বুক করা সম্ভব হলেও, নতুন ‘সুপারফাস্ট’ সিস্টেমে প্রতি মিনিটে ১ লক্ষ ২৫ হাজার টিকিট বুক করা যাবে। অর্থাৎ, সক্ষমতা বাড়বে একলাফে পাঁচ গুণ।
রেল সূত্রের খবর, ‘গদর’, ‘স্পেসএক্স’ বা ‘অ্যাভেঞ্জার’-এর মতো কিছু বেআইনি এবং স্বয়ংক্রিয় অ্যাপ ব্যবহার করে একদল অসাধু এজেন্ট সাধারণ যাত্রীদের ব্রাউজার খোলার আগেই টিকিটের বড় অংশ নিজেদের দখলে নিয়ে নিত। এই অ্যাপগুলি ক্যাপচা বা ব্যাঙ্কের ওটিপি (OTP) যাচাইয়ের পদ্ধতিকেও ফাঁকি দিতে সক্ষম ছিল। শুধু তাই নয়, প্রায় ৪০টির বেশি টেলিগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে ৩৬০ টাকায় আধার-স্বীকৃত ভুয়ো ইউজার আইডি বিক্রি হওয়ার মতো মারাত্মক অভিযোগও সামনে এসেছে।
ইতিমধ্যেই আইআরসিটিসি প্রায় আড়াই কোটি ভুয়ো ইউজার আইডি ব্লক করেছে এবং ই-টিকিট বুকিংয়ে আধার-লিঙ্কড অথেনটিকেশন বাধ্যতামূলক করেছে। রেলের দাবি, নতুন সিস্টেমের আর্কিটেকচার এমনভাবে তৈরি করা হচ্ছে যাতে এই ধরনের অসৎ কারবার রুখে দেওয়া যায়। প্রযুক্তির এই আধুনিকীকরণের ফলে আমজনতা সহজেই ঘরের কোণে বসে দ্রুত টিকিট কাটতে পারবেন বলে আশাবাদী রেল কর্তৃপক্ষ।