নিউজ ডেস্ক: “বাবা আমাকে মেরে ফেলবে, বাড়িতে অস্ত্র তৈরি করে রেখেছে”— বৃহস্পতিবার রাতে বন্ধুদের আড্ডায় বসে এই আশঙ্কার কথাই শুনিয়েছিল উলুবেড়িয়ার যুবক প্রবীর মুখোপাধ্যায়। কিন্তু বন্ধুর বাড়িতে আশ্রয় নেওয়ার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে মায়ের পাশেই থাকতে চেয়েছিল সে। সেই জেদই কাল হল। শুক্রবার ভোরে ঘুমন্ত অবস্থায় বাবা প্রদীপ মুখোপাধ্যায়ের হাতে প্রাণ হারাল মা অপর্ণা মুখোপাধ্যায় ও বড় ছেলে প্রবীর। ধারালো অস্ত্রের কোপে গুরুতর জখম ছোট ছেলেও। নৃশংস এই কাণ্ড ঘটিয়ে বিষ খেয়ে আত্মঘাতী হয়েছে বাবা প্রদীপও।

স্থানীয় সূত্রে খবর, দীর্ঘদিনের পারিবারিক অশান্তির জেরে আলাদা থাকতেন প্রদীপ। স্ত্রী ও ছেলেরা তাঁকে ঘরে ঢুকতে দিতে চাইতেন না। প্রতিবেশীদের দাবি, এই আক্রোশ থেকেই খুনের নীল নকশা ছকেছিল প্রদীপ। এমনকি বাড়ির পুরনো লোহার সরঞ্জাম বিক্রি করে তিন দিন আগেই নতুন ধারালো অস্ত্র কিনে এনেছিল সে। শুক্রবার ভোরে ঘরের চালের টালি সরিয়ে ভেতরে ঢুকে ঘুমন্ত স্ত্রী ও ছেলেদের ওপর চড়াও হয় প্রদীপ। মাকে বাঁচাতে গিয়েই প্রাণ যায় বড় ছেলের।

মৃত অপর্ণা দেবীর ভাই মন্টু অধিকারীর অভিযোগের তির শাশুড়ি কৃষ্ণা মুখোপাধ্যায়ের দিকে। তাঁর দাবি, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পিছনে প্রদীপের মায়ের প্ররোচনা ছিল। ঘটনার দিনও নাকি ছেলেদের মেরে ফেলার জন্য উস্কানি দিয়েছিলেন তিনি। পুলিশ ইতিমধ্য়েই অভিযুক্ত শাশুড়িকে আটক করেছে। আর্থিক অনটন না কি পরোক্ষ কোনও পারিবারিক ষড়যন্ত্র, খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। জখম ছোট ছেলে আপাতত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

Share on Social Media