নিউজ ডেস্ক: ঠাকুরপুকুরে দুই ডাক্তারি পড়ুয়ার মর্মান্তিক মৃত্যুর রেশ কাটতে না কাটতেই ফের রক্তাত্ব হল জেমস লং সরণি। ট্রাফিক পুলিশের নজরদারি ও কড়াকড়ির মধ্যেই শুক্রবার রাতে বেহালা শ্রীসংঘ ক্লাবের সামনে বেপরোয়া গতির বলি হতে যাচ্ছিলেন আরও এক যুবক। একটি দ্রুতগামী এসইউভি (SUV) গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর জখম হন হরিদেবপুরের বাসিন্দা সন্তু সাহা (২৫)। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের একবার রাতের কলকাতার পথ নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, রাত ১১টা ১০ মিনিট নাগাদ দুর্ঘটনাটি ঘটে। গলি থেকে বাইক নিয়ে মেন রোডে ওঠার সময় চৌরাস্তামুখী একটি এসইউভি সজোরে বাইকটিকে ধাক্কা মারে। ইমপ্যাক্ট এতটাই জোরালো ছিল যে বাইক থেকে বেশ কিছুটা দূরে ছিটকে পড়েন সন্তু। পুলিশ উদ্ধার করে তাঁকে এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যায়। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, ঘাতক গাড়িটির বিমার (Insurance) মেয়াদ গত ২০২৪ সালেই শেষ হয়ে গিয়েছিল। বৈধ নথিপত্র ছাড়াই কীভাবে রাজপথে এমন বেপরোয়া গতিতে গাড়িটি চলছিল, তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে বেহালা থানার পুলিশ। ঘাতক গাড়িটিকে আটক করা হয়েছে।
অন্যদিকে, শনিবার দুপুরে ইএম বাইপাসের মেট্রোপলিটন ক্রসিংয়েও এক ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। একটি ভারী পণ্যবাহী লরির ধাক্কায় গুরুতর জখম হন তন্ময় মিত্র নামে এক যুবক। বর্তমানে তিনি এসএসকেএম হাসপাতালের ট্রমা কেয়ারের ‘রেড জোন’-এ জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন। গত ৭ ফেব্রুয়ারি ঠাকুরপুকুরে জোড়া মৃত্যুর পর জেমস লং সরণিতে গতির সীমা বেঁধে দেওয়া ও ব্লাইন্ড স্পট চিহ্নিত করার কাজ করেছিল লালবাজার। কিন্তু দেড় মাসের মাথাতেই এই পুনরাবৃত্তি প্রমাণ করছে, স্রেফ প্রচার নয়, চালকদের মানসিকতা ও কড়া আইনি পদক্ষেপই এখন একমাত্র পথ।