নিউজ ডেস্ক: চুঁচুড়ার কাপাসডাঙায় এক গৃহবধূর রহস্য মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শনিবার দুপুরে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল এলাকা। পণের দাবিতে বছর তেইশের মৌমিতা চক্রবর্তীকে খুন করে ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে। এই ঘটনার খবর ছড়াতেই উত্তেজিত পরিজন ও প্রতিবেশীরা অভিযুক্তের বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে চুঁচুড়া থানার বিশাল পুলিশ বাহিনীকে ঘটনাস্থলে নামতে হয়। ঘটনায় স্বামী দীপঙ্কর চট্টোপাধ্যায় সহ পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, হাওড়ার সাঁকরাইলের বাসিন্দা মৌমিতার সঙ্গে তিন বছর আগে চুঁচুড়া পুরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাপাসডাঙার দীপঙ্করের বিয়ে হয়। অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই অতিরিক্ত পণের দাবিতে মৌমিতার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাত শ্বশুরবাড়ির লোকজন। অশান্তির জেরে মাঝে মাঝেই বাপের বাড়ি চলে যেতেন মৌমিতা, পরে বুঝিয়ে আবার তাঁকে ফিরিয়ে আনা হত। শনিবার সকালে বাপের বাড়ির সদস্যদের ফোন করে জানানো হয়, মৌমিতা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
মৌমিতার পরিবারের দাবি, শুক্রবার রাতেও বাবার সঙ্গে স্বাভাবিক কথা হয়েছিল তাঁর, ফলে আত্মহত্যা করার কোনও কারণ নেই। তাঁদের অভিযোগ, শ্বাসরোধ করে খুন করার পর আত্মহত্যার নাটক সাজাতে দেহ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় কাউন্সিলর নির্মল চক্রবর্তীও জানিয়েছেন, অভিযুক্ত দীপঙ্করের পরিবারের বিরুদ্ধে আগেও নানা অভিযোগ উঠেছিল। এদিন পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ অভিযুক্তদের আটক করার পর ক্ষোভ প্রশমিত হয়। পুলিশ মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে এবং খুনের মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে।