নিউজ ডেস্ক: আদর্শ আচরণবিধি জারি হওয়ার পরেই রাজ্যে কড়া নজরদারি শুরু করেছে পুলিশ ও প্রশাসন। এই আবহে শুক্রবার রাতে বর্ধমান স্টেশনে প্রায় সাড়ে সাত লক্ষ টাকা সহ এক প্রৌঢ়কে গ্রেপ্তার করল জিআরপি। ধৃতের নাম নীলকমল মুখোপাধ্যায়, বাড়ি মেমারি থানার চাঁচাই এলাকায়। তাঁর ব্যাগ থেকে নগদ ৭ লক্ষ ৫৩ হাজার ৭৪০ টাকা উদ্ধার করেছে আরপিএফ। নির্বাচনের মুখে এত বিপুল পরিমাণ টাকা উদ্ধারের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
রেল পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার রাতে বর্ধমান স্টেশনের ২-৩ নম্বর প্ল্যাটফর্মে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি করছিলেন নীলকমল। তাঁর পিঠে একটি ভারী ব্যাগ দেখে সন্দেহ হয় কর্তব্যরত আরপিএফ জওয়ানদের। তল্লাশি চালাতেই বেরিয়ে আসে টাকার বান্ডিল। জিজ্ঞাসাবাদে ধৃত ব্যক্তি দাবি করেন, তিনি একটি লটারি সংস্থার কর্মী এবং ব্যবসার টাকা নিয়ে মেমারি যাচ্ছিলেন। তবে সেই সময় টাকার সপক্ষে কোনও বৈধ নথি দেখাতে না পারায় আরপিএফ তাঁকে জিআরপি-র হাতে তুলে দেয়। সরকারি নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে মামলা রুজু করে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
শনিবার ধৃতকে বর্ধমান সিজেএম আদালতে পেশ করা হলে লটারি সংস্থার মালিক এফিডেভিট জমা দিয়ে দাবি করেন, নীলকমল তাঁদেরই কর্মী। ব্যবসা ও আয়কর সংক্রান্ত নথিপত্রও আদালতে পেশ করা হয়। যদিও সরকারি আইনজীবী জামিনের বিরোধিতা করেন, তবে সব দিক বিচার করে ভারপ্রাপ্ত সিজেএম শর্তাধীন জামিন মঞ্জুর করেছেন। আগামী ১৯ মে মামলার পরবর্তী শুনানির দিন তাঁকে আদালতে হাজির থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের আগে এই বিপুল অর্থ পরিবহণের নেপথ্যে অন্য কোনও উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।