নিউজ ডেস্ক: ইদের রাতে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল ইজরায়েল। আকাশ চিরে ধেয়ে এল ইরানের একের পর এক মিসাইল। বিকট শব্দ আর আগুনের গোলারtarget হল ইজরায়েলের ‘লিটল ইন্ডিয়া’ নামে পরিচিত ডিমোনা (Dimona) শহর। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পার্শ্ববর্তী আরাদ শহরও। এই ভয়াবহ হামলায় শিশুসহ অন্তত ১৮০ জন গুরুতর জখম হয়েছেন। ডিমোনা শহরেই রয়েছে ইজরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ ‘শিমন পেরেজ নেগেভ’ পরমাণু গবেষণা কেন্দ্র। গোয়েন্দা সূত্রের খবর, ইরানের মূল লক্ষ্য ছিল এই পরমাণু কেন্দ্রটিই। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও তেজস্ক্রিয় বিকিরণের খবর মেলেনি।
শনিবার ইরানের নাতান্জ পরমাণু কেন্দ্রে ইজরায়েল ও আমেরিকার যৌথ হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পালটা প্রত্যাঘাত শুরু করে তেহরান। মিসাইল হানায় ভেঙে পড়েছে একাধিক বহুতল। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে রাতভর কাজ করেছে ইজরায়েলি সেনা ও মেডিক্যাল টিম। প্রসঙ্গত, ডিমোনা শহরটি ভারতীয় বংশোদ্ভূত ইহুদিদের প্রধান বসতি হওয়ায় একে ‘লিটল ইন্ডিয়া’ বলা হয়। ১৯৫০-এর পর মহারাষ্ট্র থেকে আসা কয়েক হাজার ইহুদি এখানে বসবাস করেন। ফলে এই শহরের অলিতে-গলিতে মারাঠি ও হিন্দি ভাষার পাশাপাশি ক্রিকেট এবং ভারতীয় খাবারের চল রয়েছে। এই হামলায় কোনও ভারতীয় বংশোদ্ভূত জখম হয়েছেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে ইরানের সামরিক পরিকাঠামো ভেঙে পড়েছে। কিন্তু শনিবার রাতের এই বিধ্বংসী হামলা সেই দাবিকে বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়ে দিল। ইজরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে (Air Defense System) ফাঁকি দিয়ে কীভাবে শয়ে শয়ে কেজি বিস্ফোরক সহ মিসাইল শহরে আছড়ে পড়ল, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। এই ঘটনার পর চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, “শত্রুপক্ষকে রেয়াত করা হবে না, যোগ্য জবাব দেওয়া হবে।” অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালীর কাছে একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান গুলি করে নামিয়ে নিজেদের শক্তিপ্রদর্শন করেছে ইরান।