নিউজ ডেস্ক: মানসিক অবসাদ ও দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনের করুণ পরিণতি। প্রথমে আত্মহত্যার চেষ্টা, তারপর হাসপাতাল থেকে পালিয়ে ট্রেনের ধাক্কায় মর্মান্তিক মৃত্যু হল এক যুবকের। মৃত যুবকের নাম কার্তিক সাঁতরা (৩৪), বাড়ি হাওড়ার জগৎবল্লভপুরের বাদেওয়ালিয়া এলাকায়। রবিবার সকালে রেললাইনের ধার থেকে তাঁর দ্বিখণ্ডিত দেহ উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, কার্তিক দীর্ঘদিন ধরেই মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। শনিবার সন্ধ্যায় মানসিক অবসাদ থেকেই তিনি নিজের গলা ব্লেড দিয়ে কেটে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। অত্যন্ত সংকটজনক অবস্থায় পরিবারের সদস্যরা তাঁকে প্রথমে জগৎবল্লভপুর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে রাতেই তাঁকে উলুবেড়িয়ার একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে স্থানান্তরিত করা হয় এবং একটি জরুরি অস্ত্রোপচারও করা হয়।
হাসপাতাল থেকে পলায়ন ও মর্মান্তিক পরিণতি:
মৃতের শ্বশুর ভগীরথ পোড়েল দাবি করেছেন, শনিবার গভীর রাতে নার্সিংহোমের কর্মীদের ভয় দেখিয়ে সেখান থেকে কোনওরকমে পালিয়ে যান কার্তিক। জখম অবস্থায় একজন রোগী কীভাবে উধাও হয়ে গেলেন, তা নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পরিবারের মধ্যে হুলুস্থুল পড়ে যায়। রাতেই পুলিশকে খবর দেওয়া হয় এবং চারদিকে তল্লাশি শুরু হয়।
রবিবার সকালে স্থানীয়রা রেললাইনের ধারে কার্তিকের দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, হাসপাতাল থেকে পালানোর সময় অসাবধানবশত রেললাইন পার হতে গিয়ে দ্রুতগামী কোনও ট্রেনের ধাক্কায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে। ট্রেনের অভিঘাতে তাঁর দুটি পা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল।
শোকাতুর পরিবার ও তদন্ত:
জগৎবল্লভপুর ও উলুবেড়িয়া থানার পুলিশ দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। হাসপাতাল থেকে একজন জখম রোগী কীভাবে পালিয়ে গেলেন, তাতে নার্সিংহোমের নিরাপত্তার কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতার অভাব এবং সঠিক সময়ে চিকিৎসার অভাবই কি এই অকাল মৃত্যুর কারণ? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে বাদেওয়ালিয়ার ঘরে ঘরে।