নিউজ ডেস্ক: আদালতের নির্দেশে কারখানার গেটে ঝুলেছিল তালা। কাজ হারিয়ে ঘরে ফিরেছিলেন শ্রমিকরা। কিন্তু সেই লোহার গেট সিল হওয়ার মুহূর্তে কারখানার অন্ধকারের ভিটেতেই যে থেকে গিয়েছিল ৪-৫টি অবলা প্রাণ, সে কথা কারও মনে ছিল না। দীর্ঘ চার বছর পর, সেই রুদ্ধদ্বার অন্ধকার কুঠুরি থেকে উদ্ধার হলো এক সারমেয়। হাওড়ার মালিপাঁচঘড়া থানা এলাকার ঘুসুড়ি বাজারের এই ঘটনা কার্যত কোনও সিনেমার চিত্রনাট্যকেও হার মানায়।
এক অদ্ভুত বেঁচে থাকার লড়াই
প্রায় চার বছর আগে যখন ঘুসুড়ি বাজারের পাশের এই তার তৈরির কারখানাটি বন্ধ হয়, তখন কারখানার ভিতরেই আটকে পড়ে কয়েকটি পথকুকুর। কারখানার গেট এতটাই উঁচু যে তা টপকানোর ক্ষমতা ছিল না তাদের। এলাকার সহৃদয় ব্যবসায়ীরা তাঁদের অস্তিত্ব টের পেয়ে গেটের ওপর দিয়ে নিয়ম করে রুটি, মাংস ও অন্য খাবার ছুড়ে দিতেন। খোকন বাগ নামে এক স্থানীয় ব্যবসায়ী জানান, কারখানার ভিতরে একটি টাইম-কল থাকায় হয়তো জলের অভাব হয়নি। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কুকুরের ডাক কমতে শুরু করে। ব্যবসায়ীরা বুঝতে পারেন, চার-পাঁচটি থেকে কমতে কমতে সংখ্যাটা এসে ঠেকেছে মাত্র এক-এ।
উদ্ধারের রোমাঞ্চকর অভিযান
সম্প্রতি বিষয়টি নজরে আসে সমাজকর্মী তন্দ্রা লাহিড়ীর। তিনি খবর দেন সল্টলেকের পশুপ্রেমী জুঁই চক্রবর্তীকে। খবর পেয়েই গত শনিবার সন্ধ্যায় জুঁই তাঁর দলবল নিয়ে হাজির হন ঘুসুড়িতে। বন্ধ কারখানার সিল করা গেট খোলা আইনত অপরাধ, তাই ডাক দেওয়া হয় পুলিশ ও দমকল বাহিনীকে। দমকল কর্মীরা লম্বা মই নিয়ে নিকষ কালো কারখানার ভিতর দড়ি ও টর্চ নিয়ে প্রবেশ করেন। কিন্তু দীর্ঘ চার বছর মানুষ না দেখা ওই সারমেয় ভয় পেয়ে এদিক-ওদিক ছুটতে শুরু করে।
পরিচিত গন্ধ ও মুক্তির স্বাদ
উদ্ধারকাজ যখন প্রায় থমকে যাওয়ার মুখে, তখন এগিয়ে আসেন সেই ব্যবসায়ী খোকন বাগ, যিনি দীর্ঘ চার বছর ধরে খাবার ছুড়ে দিতেন ওই কুকুরটিকে। তিনি নিজে মই বেয়ে ভিতরে ঢোকেন। যে গন্ধ ৪ বছর ধরে সে গেটের ওপার থেকে পেত, সেই চিরপরিচিত মানুষের ডাক শুনে এবার আর ভয় পায়নি সারমেয়টি। শান্ত হয়ে খোকনের কাছে এগিয়ে আসে সে। জুঁই চক্রবর্তী জানিয়েছেন, কুকুরটি সম্ভবত র্যাবিসে আক্রান্ত। তাকে আপাতত চিকিৎসার জন্য একটি নিরাপদ শেল্টারে পাঠানো হয়েছে। অবলা জীবের এই দীর্ঘ বন্দিদশা থেকে মুক্তির খবরে খুশির হাওয়া ঘুসুড়ি বাজার এলাকায়।