নিউজ ডেস্ক: লোকসভা নির্বাচনের আবহে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন প্রান্তে জারি রয়েছে বোমা-বন্দুক উদ্ধারের পালা। ভাঙড় থেকে জয়নগর— পুলিশের বিশেষ অভিযানে দফায় দফায় উদ্ধার হলো আগ্নেয়াস্ত্র ও তাজা বোমা। বৃহস্পতিবার রাতের এই অভিযানে ভাঙড়ে এক আইএসএফ (ISF) কর্মী-সহ মোট তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ভাঙড়ের রাজনৈতিক পরিবেশ।
ভাঙড়ে পুলিশের হানা ও রাজনৈতিক তরজা
বৃহস্পতিবার রাতে উত্তর কাশিপুর থানার পুলিশ রঘুনাথপুর খালপাড় এলাকায় একটি বাড়িতে অতর্কিত অভিযান চালায়। তল্লাশি চালিয়ে সেখান থেকে উদ্ধার হয় তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র ও দুটি কার্তুজ। এই ঘটনায় হাবিবুর রহমান মোল্লা নামে এক যুবককে পুলিশ গ্রেফতার করেছে, যাকে স্থানীয়রা আইএসএফ কর্মী হিসেবেই চেনেন। ধৃতের দাবি, নিজের ‘সুরক্ষা’র জন্যই সে এই অস্ত্র কিনেছিল। তবে এই যুক্তি মানতে নারাজ প্রশাসন।
এই ঘটনা নিয়ে মুখ খুলেছেন ভাঙড়ের তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লা। তাঁর অভিযোগ, ‘‘ভোটের আগে এলাকায় অশান্তি ছড়াতে উত্তর ২৪ পরগনা থেকে এইসব অস্ত্র আমদানি করছে আইএসএফ।’’ যদিও তৃণমূলের অভিযোগ উড়িয়ে পাল্টা মারধরের অভিযোগ এনেছে বিরোধী শিবির। তাঁদের দাবি, বৃহস্পতিবার রাতে ভাঙড় ও গোসাবায় তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা আইএসএফ এবং বিজেপি কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে।
জয়নগর ও বকুলতলায় পুলিশের সাফল্য
ভাঙড়ের পাশাপাশি জয়নগর ও বকুলতলা থানা এলাকাতেও অস্ত্র উদ্ধারে বড় সাফল্য পেয়েছে বারুইপুর জেলা পুলিশ। জয়নগরের কাশিপুর কামারিয়া এলাকায় রানা গাজি নামে এক ব্যক্তির বাড়ি থেকে একটি দেশি বন্দুক ও কার্তুজ উদ্ধার হয়েছে। অন্যদিকে, বকুলতলার রূপনগর এলাকায় পিন্টু হালদার নামে এক কুখ্যাত দুষ্কৃতীর বাড়িতে হানা দেয় পুলিশ। বাড়ির ছাদ থেকে বোমা তৈরির মশলা-সহ পাঁচটি তাজা বোমা উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতার করা হয়েছে পিন্টু ও রানাকে।
নির্বাচনের দিনক্ষণ যত এগিয়ে আসছে, ততই সীমান্তবর্তী ও সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে তল্লাশি জোরদার করছে পুলিশ। এই অস্ত্র উদ্ধারগুলি কোনও বড়সড় নাশকতার ছক কি না, এখন তা-ই খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।