নিউজ ডেস্ক: আদালতের নির্দেশে বনগাঁর এক শ্মশানে সমাধিস্থ করা সদ্যোজাত শিশুর দেহ তুলে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠাল পুলিশ। শনিবার পুলিশ প্রশাসনের পদস্থ আধিকারিকদের উপস্থিতিতে ঘাটবাওর এলাকায় এই দেহ উত্তোলনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। এই ঘটনায় আগেই শিশুটির বাবাকে পকসো (POCSO) আইনে গ্রেফতার করা হয়েছিল। বর্তমানে গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখছে বনগাঁ থানার পুলিশ।
ঘটনার সূত্রপাত গত ৩০ মার্চ। ওই দিন বনগাঁ মহকুমা হাসপাতালে এক পুত্রসন্তানের জন্ম দেন এক নাবালিকা। নিয়ম অনুযায়ী, মা নাবালিকা হওয়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে স্থানীয় থানায় খবর দেওয়া হয়। পুলিশ তদন্তে নেমে জানতে পারে, বেআইনিভাবে ওই নাবালিকাকে বিয়ে করা হয়েছে। এর পরেই নাবালিকার স্বামী লক্ষ্মণ রায়কে পকসো আইনে গ্রেফতার করে পুলিশ।
গত ২ এপ্রিল হাসপাতাল থেকে মা ও শিশুকে ছুটি দেওয়া হয়। পরিবারের দাবি, বাড়ি ফেরার পরের দিনই অর্থাৎ ৩ এপ্রিল শিশুটির শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। তড়িঘড়ি তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। এর পরেই পরিজনরা মৃত শিশুটিকে ঘাটবাওর এলাকার একটি শ্মশানে সমাধিস্থ করেছিলেন।
তবে পকসো মামলার গুরুত্ব এবং শিশুর মৃত্যুর সঠিক কারণ নিয়ে ধন্দ থাকায় আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল পুলিশ। বিচারকের নির্দেশে শনিবার ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে মাটি খুঁড়ে দেহটি বের করা হয়। পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই বোঝা যাবে শিশুটির মৃত্যু স্বাভাবিক ছিল নাকি এর পিছনে অন্য কোনও রহস্য রয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।