নিউজ ডেস্ক: ব্রিটিশ আমলের সাক্ষী বহনকারী অসংখ্য আইনি নথি এবং রেজিস্টার দীর্ঘকাল ধরে তালাবন্দি হয়ে পড়ে রয়েছে প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারের অন্ধকার আলমারিতে। উপযুক্ত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ধুলো আর অযত্নে নষ্ট হতে বসা এই ৮-১০টি আলমারি ভর্তি নথি এবার ঝাড়াই-বাছাই করে সংরক্ষণের বিশেষ উদ্যোগ নিচ্ছে জেল কর্তৃপক্ষ। সংশোধনাগার সূত্রের খবর, এই ধুলোমাখা কাগজের স্তূপের মধ্যেই লুকিয়ে থাকতে পারে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের কোনও অজানা অধ্যায় বা কোনও মহান বিপ্লবীর বিচার সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।
ব্রিটিশ আমলের ‘প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট’
ব্যাঙ্কশাল আদালতের প্রবীণ আইনজীবীদের মতে, বন্দিদের আদালত থেকে জেলে বা জেল থেকে আদালতে যাতায়াতের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি নথি বা ‘প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট’ এই আলমারিগুলিতে ঠাঁই পেয়েছে। প্রবীণ আইনজীবী যামিনীরঞ্জন ঘোষ জানান, সেই নথিতে বন্দির নাম, মামলার নম্বর এবং কোন ধারায় মামলা হয়েছিল, তার সবিস্তার বিবরণ থাকে। যেহেতু কলকাতার প্রধান ফৌজদারি আদালত ব্যাঙ্কশালের অধীনেই পড়ে প্রেসিডেন্সি জেল, তাই ইংরেজ বিরোধী আন্দোলন, মিছিল বা রাজনৈতিক সমাবেশের কারণে গ্রেপ্তার হওয়া বহু নেতা-নেত্রীর বিচার সংক্রান্ত নির্দেশিকা এই আলমারিগুলিতেই বন্দি হয়ে আছে।
লুকিয়ে থাকতে পারে বিপ্লবীদের তথ্য
ইতিহাসের প্রেক্ষাপট বলছে, বহু বিপ্লবী সশস্ত্র আন্দোলনের সময় ধরা পড়েছিলেন এবং তাঁদের বিচার হয়েছিল এই আদালতেই। আলিপুর আদালতে যেমন ‘আলিপুর বোমা মামলা’র নথিপত্র এবং বিপ্লবীদের ফটোগ্রাফ নিয়ে একটি বিশেষ সংগ্রহশালা রয়েছে, তেমনই প্রেসিডেন্সি জেলের এই নথিগুলি উদ্ধার করা গেলে আগামী দিনে ইতিহাস রচনার ক্ষেত্রে তা গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হতে পারে। ব্যাঙ্কশাল কোর্টের আইনজীবী সংগঠনের কর্তা প্রবীর মুখোপাধ্যায় এবং অবসরপ্রাপ্ত বিচারক শান্তনু রায়ের দাবি, এই অমূল্য আইনি দলিলগুলি নষ্ট হওয়ার আগেই যথাযথ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করে সরকারি সংগ্রহশালায় রাখা অত্যন্ত প্রয়োজন। তালাবন্দি অবস্থা থেকে এই নথিগুলি মুক্তি পেলে তা বাংলার বিপ্লবী ইতিহাসের এক নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে।