নিউজ ডেস্ক: বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব পয়লা বৈশাখে এ বার ছন্দপতন। প্রতি বছরের মতো এ বারও নববর্ষের সকালে বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক শোভাযাত্রার পরিকল্পনা করেছিল ‘বাংলা পক্ষ’। কিন্তু নির্বাচনের আবহে সেই কর্মসূচিতে বাদ সাধল নির্বাচন কমিশন। বউবাজারের ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া মোড় থেকে শ্যামবাজারের নেতাজি মূর্তি পর্যন্ত প্রস্তাবিত এই মিছিলে অনুমতি না মেলায় তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছে সংগঠনটি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের একবার ‘বাঙালি বনাম বহিরাগত’ তর্জা শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।
কমিশন সূত্রে খবর, রাজনৈতিক দল বা গণসংগঠনগুলিকে সভার অনুমতি দেওয়ার জন্য ‘সুবিধা’ অ্যাপ ব্যবহার করা হয়। সেখানে ‘আগে এলে আগে পাবেন’ ভিত্তিতে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে কম্পিউটারই স্থির করে কারা অনুমতি পাবে। কমিশনের যুক্তি, ওই দিন ওই নির্দিষ্ট রুটে হয়তো অন্য কোনও সংগঠনের কর্মসূচি আগে থেকেই নথিভুক্ত ছিল, তাই কম্পিউটার স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাংলা পক্ষের আবেদনটি বাতিল করেছে। এখানে কমিশনের কোনও আধিকারিকের ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপের অবকাশ নেই বলে দাবি করা হয়েছে।
তবে কমিশনের এই যুক্তি মানতে নারাজ বাংলা পক্ষের কর্ণধার গর্গ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর সরাসরি অভিযোগ, ‘‘আমরা প্রতিবারের মতো এবারও সময়মতো আবেদন করেছিলাম। কিন্তু কোনও সুনির্দিষ্ট কারণ না দেখিয়েই তা বাতিল করা হয়েছে। আমাদের কাছে খবর আছে, ওই দিন ওই তল্লাটে অন্য কোনও বড় রাজনৈতিক কর্মসূচি নেই। আসলে এই কমিশন বাঙালি বিদ্বেষী এবং বাংলা সংস্কৃতির বিরোধী। বাঙালির নববর্ষ নয়, বরং আমাদের ওপর হিন্দি নববর্ষ চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।’’
উল্লেখ্য, পয়লা বৈশাখের সকালে উত্তর কলকাতায় এই শোভাযাত্রার মাধ্যমে বাংলার লোকসংস্কৃতি ও কৃষ্টিকে তুলে ধরে সংগঠনটি। সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণও লক্ষ্য করা যায় এই মিছিলে। কিন্তু এবার কমিশনের আপত্তিতে সেই অনুষ্ঠান ভেস্তে যাওয়ায় রীতিমতো হতাশ উৎসবপ্রেমী নাগরিকরা। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচনের মুখে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাঙালির আবেগকে হাতিয়ার করে কমিশন তথা কেন্দ্রের বিরুদ্ধে জনমত তৈরির সুযোগ পেয়ে গেল বাংলা পক্ষ।