নিউজ ডেস্ক: গণতন্ত্রের উৎসবে শামিল হতে আর শারীরিক অসুস্থতা বাধা নয়। নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগে ঘরে বসেই ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হলো হাওড়া ও হুগলি জেলায়। আগামী ২৯ এপ্রিল রাজ্যে দ্বিতীয় দফার নির্বাচন। তার আগে শুক্রবার থেকেই ৮০ ঊর্ধ্ব প্রবীণ এবং বিশেষভাবে সক্ষমদের জন্য শুরু হয়েছে ‘হোম ভোটিং’। তিন দিন ব্যাপী এই প্রক্রিয়ার প্রথম দিনেই দুই জেলায় উৎসবের মেজাজ ধরা পড়ল।
কমিশন সূত্রে খবর, হাওড়া জেলায় এবার মোট ৭ হাজার ২০২ জন প্রবীণ ও বিশেষভাবে সক্ষম ভোটার বাড়িতে বসেই ভোট দেওয়ার আবেদন জানিয়েছিলেন। এর মধ্যে ৫ হাজার ৯৪০ জন ভোটারের বয়স ৮৫ বছরের বেশি এবং ১ হাজার ২৬২ জন বিশেষভাবে সক্ষম। শুক্রবার আমতা বিধানসভা কেন্দ্রের জয়পুরে ‘চিরনবীন’ হোমের ৪৪ জন বিশেষভাবে সক্ষম মহিলা ভোটার প্রথম দফায় তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া পাহারায় ভোটকর্মীরা সরাসরি হোমে পৌঁছে যান। আজ, শনিবার ওই হোমের বাকি ৪৪ জন মহিলার ভোট দেওয়ার কথা। প্রতিকূলতাকে জয় করে ভোট দিতে পেরে উচ্ছ্বসিত ওই আবাসিকেরাও।
হুগলি জেলাতেও এ দিন সকালেই শুরু হয় ভোটগ্রহণ। বলাগড় বিধানসভা এলাকায় দেখা গেল এক আবেগঘন দৃশ্য। চলচ্ছক্তিহীন বৃদ্ধা কানন ঘোষ নিজের বাড়িতেই ভোট দেন। ভোটদানের পর তাঁর তৃপ্ত হাসিতেই যেন সার্থকতা খুঁজে পেল কমিশনের এই বিশেষ পদক্ষেপ। কাননদেবীর কথায়, ‘‘সরকার গড়তে আমার মতামতেরও দাম আছে, এটা ভেবেই ভাল লাগছে।’’ একই ছবি দেখা গিয়েছে শ্রীরামপুরের মাহেশ এলাকাতেও। সেখানকার এক অশীতিপর বৃদ্ধও প্রশাসনের এই ব্যবস্থায় খুশি। আগামী দু’দিন ধরে সংশ্লিষ্ট বিধানসভা এলাকায় এলাকায় এই হোম ভোটিং প্রক্রিয়া চলবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। – প্রতীকী ছবি