নিউজ ডেস্ক: নীল ধোঁয়া উড়িয়ে বাতাসিয়া লুপের বাঁকে সেই চেনা কু-ঝিকঝিক শব্দ এবার বদলে গেল গণতন্ত্রের আহ্বানে। শতবর্ষ প্রাচীন হেরিটেজ টয় ট্রেন এবার অংশ নিল নির্বাচন কমিশনের ভোট সচেতনতা অভিযানে। আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন উপলক্ষে ভোটারদের উৎসাহিত করতে দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে (DHR) এবং জেলা নির্বাচন দপ্তরের যৌথ উদ্যোগে এই বিশেষ ট্রেনের নাম রাখা হলো ‘ডেমোক্রেসি এক্সপ্রেস’।
শুক্রবার সকালে দার্জিলিং স্টেশনে প্রদীপ জ্বালিয়ে এবং ঐতিহ্যবাহী খাদা পরিয়ে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয়। উপস্থিত ছিলেন ডিএইচআর অধিকর্তা ঋষভ চৌধুরি-সহ স্থানীয় প্রশাসনের পদস্থ আধিকারিকরা। অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল শেরপা দলের মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক নৃত্য, যা পাহাড়ের সংস্কৃতির সঙ্গে নাগরিক কর্তব্যের মেলবন্ধন ঘটিয়ে এক অনন্য আবহ তৈরি করে।
সুসজ্জিত ‘ডেমোক্রেসি এক্সপ্রেস’ যখন দার্জিলিং স্টেশন থেকে বাতাসিয়া লুপের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে, তখন পর্যটকদের কৌতূহলী চোখের সামনে ভেসে ওঠে নির্বাচন কমিশনের সুদৃশ্য ট্যাবলো। ট্রেনের গায়ে সাঁটানো বিভিন্ন পোস্টার ও ফেস্টুন থেকে পথচলতি মানুষ এবং পর্যটকদের নির্ভয়ে ও সচেতনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগের বার্তা দেওয়া হয়। স্টেশনে আয়োজন করা হয়েছিল এক বিশাল স্বাক্ষর অভিযানেরও, যেখানে সাধারণ মানুষ থেকে পর্যটক— সকলেই গণতন্ত্রের উৎসবে শামিল হওয়ার অঙ্গীকার করেন।
ডিএইচআর অধিকর্তা ঋষভ চৌধুরি জানান, হেরিটেজ টয় ট্রেনের জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভোটের গুরুত্ব পৌঁছে দেওয়াই ছিল এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। ঐতিহ্য আর আধুনিক গণতন্ত্রের এই যুগলবন্দি দেখে আপ্লুত শৈলশহরের পর্যটকরাও। নির্বাচন কমিশনের মতে, পাহাড়ের এই ‘গণতন্ত্র এক্সপ্রেস’ শেষ পর্যন্ত মানুষের মনে আস্থার আবহ তৈরি করতে সফল হবে।