নিউজ ডেস্ক: ঘড়ির কাঁটায় তখন সকাল ন’টা। বাজারের ব্যাগ হাতে পর্ণশ্রীর মোড়ে দাঁড়িয়ে থমকে গেলেন বছর তেহাত্তরের এক বৃদ্ধা। চেনা গলি দিয়ে মন্থর গতিতে এগিয়ে আসছে লোহার গ্রিলে ঘেরা এক দানবীয় যান— আধাসেনার সাঁজোয়া গাড়ি। গাড়ির ছাদ থেকে হেলমেট পরিহিত জওয়ানের তীক্ষ্ণ নজর, হাতে উদ্যত একে-৪৭। সিনেমার শুটিং নয়, এ এক রূঢ় বাস্তব। বিধানসভা ভোটের প্রাক্কালে কলকাতার রাজপথে এখন ‘যুদ্ধ যুদ্ধ’ আবহ। শহরবাসীর প্রশ্ন— ভোট না কি রণক্ষেত্র, আমরা ঠিক কোথায় দাঁড়িয়ে?
অতীতে লোকসভা বা বিধানসভা নির্বাচনে কেন্দ্রীয় বাহিনীর টহল নতুন কিছু নয়। কিন্তু এবারের চিত্রটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। বালিগঞ্জ ফাঁড়ি থেকে বেহালার এঁদো গলি— সর্বত্রই সিআরপিএফ-এর সাঁজোয়া গাড়ির দাপট। প্রবীণ নাগরিকদের স্মৃতি হাতড়েও এমন দৃশ্য মনে পড়ছে না। তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী সনৎ কর্মকারের কথায়, “এবারের ভোটে চেনা শহরটাই যেন অচেনা ঠেকছে। মনে হচ্ছে কোনও অশান্ত সীমান্ত এলাকায় আছি।” ভোটারদের মনোবল বাড়াতে এবং ভয়মুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে নির্বাচন কমিশন বদ্ধপরিকর হলেও, বাহিনীর এই ‘রণসাজ’ সাধারণ মানুষের মনে উল্টে আশঙ্কাই তৈরি করছে।
তবে শুধু সাঁজোয়া গাড়ি নয়, কলকাতাবাসীকে তাজ্জব করে দিয়েছে নজরদারির আরও এক নয়া কৌশল। শহরের অলিগলিতে এবার ঘুরছে ‘পিটিজেড’ ক্যামেরা লাগানো অ্যাপ ক্যাব। ২০১৪-১৫ সালে অ্যাপ ক্যাব চালু হওয়ার পর একাধিক ভোট দেখেছে কলকাতা, কিন্তু গাড়ির মাথায় হাই-টেক ক্যামেরা বসিয়ে এমন ডিজিটাল নজরদারি আগে দেখা যায়নি। প্রতিটি গাড়িতেই থাকছেন নির্বাচন কমিশনের আধিকারিক, কলকাতা পুলিশের কর্মী এবং সশস্ত্র জওয়ান। স্পর্শকাতর এলাকা থেকে শুরু করে পাড়ার অলিন্দ— কমিশনের ‘তৃতীয় নয়ন’ এখন সর্বত্র। নজিরবিহীন এই নিরাপত্তা বেষ্টনী পেরিয়ে বাংলার জনমত শেষ পর্যন্ত কোন দিকে যায়, এখন সেটাই দেখার।