নিউজ ডেস্ক: ভোটের আবহে যখন শহরজুড়ে কড়া নিরাপত্তা, ঠিক তখনই রাতের অন্ধকারে দলবল নিয়ে জমি দখলের অভিযোগ উঠল বেহালা সংলগ্ন পর্ণশ্রী এলাকায়। বালিগঞ্জের এক ব্যবসায়ীর জমি জোরপূর্বক দখল এবং এক কোটি টাকা তোলা চাওয়ার অভিযোগে উত্তপ্ত পর্ণশ্রী থানা এলাকা। অভিযোগের তির স্থানীয় প্রোমোটার তথা ব্যবসায়ী গণেশ পালের বিরুদ্ধে। ঘটনার পাঁচ দিন অতিক্রান্ত হলেও অভিযুক্ত অধরা থাকায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আবেদনকারী।
অফিসে ভাঙচুর ও নথিপত্র চুরির অভিযোগ: বালিগঞ্জের বাসিন্দা তথা নির্মাণ ব্যবসায়ী গৌরব নারসারিয়া পর্ণশ্রী থানায় দায়ের করা অভিযোগে জানিয়েছেন, ২০১০ সালে এন জি সাহা রোডে তিনি আট কাঠা জমি কিনেছিলেন। অভিযোগ, গত ২০ এপ্রিল রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ গণেশ পাল ২০-৩০ জনের এক সশস্ত্র দলবল নিয়ে ওই জমিতে হানা দেন। গৌরবের অফিসে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয় এবং ল্যাপটপ সহ জমির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র হাতিয়ে নেওয়া হয় বলে দাবি করা হয়েছে।
তোলাবাজি ও খুনের হুমকি: এফআইআর-এ আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, বাধা দিতে গেলে গৌরবের কর্মচারীদের মারধর ও হুমকি দেওয়া হয়। অভিযোগকারীর দাবি, গণেশ পাল সরাসরি এক কোটি টাকা তোলা দাবি করেছেন এবং টাকা না দিলে খুন করার হুমকি দিয়েছেন। এই ঘটনার পর আট কাঠা জমির মধ্যে প্রায় তিন কাঠা জমি অভিযুক্ত প্রোমোটার জোর করে পাঁচিল দিয়ে দখল করে নিয়েছেন বলে ব্যবসায়ীর অভিযোগ।
পাল্টা দাবি অভিযুক্তের: যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন গণেশ পাল। তাঁর পাল্টা দাবি, “উল্টে আমিই ওই নির্মাণ সংস্থার কাছে টাকা এবং ফ্ল্যাট পাব। আমার সঙ্গে সংস্থার চুক্তি থাকা সত্ত্বেও আমাকে তা দেওয়া হয়নি।” অর্থাৎ, বিষয়টি যে দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক বিবাদ, তা তাঁর বয়ানে স্পষ্ট।
প্রশাসনের দ্বারস্থ ব্যবসায়ী: বিপাকে পড়ে গৌরব নারসারিয়া কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দা, গোয়েন্দা প্রধান সোমা দাস মিত্র এবং ডিসি (সাউথ ওয়েস্ট) রাহুল দে’র পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনেও লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন। গুরুত্ব বুঝে পর্ণশ্রী থানার পুলিশ বেআইনি অনুপ্রবেশ, তোলাবাজি ও হুমকির মতো একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করেছে। তবে ভোটের মুখে শহরের বুকে এমন ‘ল্যান্ড গ্র্যাবিং’ বা জমি দখলের অভিযোগ প্রশাসনের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।