নিউজ ডেস্ক: প্রথম দফার ভোট মিটতেই রণকৌশল বদলে ফেলল নির্বাচন কমিশন। আগামী বুধবার দক্ষিণবঙ্গের ১৪২টি আসনে দ্বিতীয় দফার নির্বাচন। আর এই দফায় নিরাপত্তাকে কার্যত অভেদ্য করতে বেনজির সিদ্ধান্ত নিল কমিশন। এবার আর বুথের ১০০ মিটার নয়, বুথ চত্বরের ৫০০ মিটার এলাকা পর্যন্ত চলবে কড়া নজরদারি। উত্তর ও দক্ষিণ কলকাতার ঘিঞ্জি এলাকাগুলিতে মোতায়েন করা হচ্ছে শ’য়ে শ’য়ে সিসি ক্যামেরা। কমিশনের এই নয়া দাওয়াই নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে।
৫০০ মিটারের কড়া বেষ্টনী ও সিসি ক্যামেরা: কমিশন সূত্রে খবর, গ্রামীণ এলাকার পাশাপাশি এবার কলকাতার মতো মেগাসিটির ভোট রয়েছে। শহরতলীর ঘিঞ্জি এলাকায় ১০০ মিটারের বাইরেও অশান্তি দানা বাঁধতে পারে, এই আশঙ্কা থেকেই নজরদারির পরিধি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত। উত্তর কলকাতায় ২৭০টি এবং দক্ষিণ কলকাতায় ৪৫৮টি বাড়তি সিসি ক্যামেরা বসানো হচ্ছে বুথমুখী রাস্তাগুলোতে। যেখানে ক্যামেরা থাকবে না, সেখানে কুইক রেসপন্স টিম (QRT) তাদের ক্যামেরা লাগানো গাড়ির মাধ্যমে ৫০০ মিটার পর্যন্ত পাহারায় থাকবে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে অবশ্য এই সিদ্ধান্তকে কটাক্ষ করে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, “নিরাপত্তা নিয়ে নিজেদের নির্দেশেই কি আস্থা নেই কমিশনের? এবার ৫০০ মিটার, ভোট শুরু হলে কি হাজার মিটার হবে?”
আইসি-ওসিদের কড়া হুঁশিয়ারি: শান্তিপূর্ণ ভোট সুনিশ্চিত করতে এবার পুলিশ আধিকারিকদের ওপর দায়বদ্ধতা বাড়িয়েছে কমিশন। স্পষ্ট জানানো হয়েছে, সংশ্লিষ্ট এলাকায় কোনও বিস্ফোরক উদ্ধার হলে বা ভোটারদের ভয় দেখানোর অভিযোগ উঠলে নজিরবিহীন শাস্তির মুখে পড়তে হবে থানার আইসি বা ওসি-দের। যে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এমনকি বুথের নজরদার ক্যামেরা ১০ মিনিটের বেশি বন্ধ থাকলে তৎক্ষণাৎ কিউআরটি পাঠানোর নির্দেশ জারি হয়েছে।
হাইরাইজ ও বহিরাগতদের ওপর নজর: এবার শহরের যে সব হাইরাইজ বিল্ডিংয়ে বুথ রয়েছে, সেখানে কড়া নিয়ম বলবৎ করছে কমিশন। বহিরাগত কেউ ওই বিল্ডিংয়ে থাকলে তাঁর নথি কর্তৃপক্ষকে জমা দিতে হবে। এমনকি নির্বাচনের দিন বাড়িতে কাজ করতে আসা ব্যক্তিদেরও পরিচয়পত্র জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার অতীত হিংসার নজির মাথায় রেখেই যে এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি, তা কমিশনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের কথাতেই স্পষ্ট।