নিউজ ডেস্ক: ২০৭টি আসন জিতে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভের পর এবার বাংলায় সরকার গঠনের চূড়ান্ত প্রক্রিয়া শুরু করল বিজেপি। ২০২১-এর পরাজয়ের গ্লানি মুছে ‘অব কি বার ২০০ পার’ স্লোগানকে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন বিজেপির চাণক্য অমিত শাহ। মঙ্গলবারই কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তাঁকে বাংলার পরিষদীয় দলনেতা অর্থাৎ মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনের জন্য প্রধান পর্যবেক্ষক নিয়োগ করেছে। আজ, বুধবার সকালেই ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝিকে সঙ্গে নিয়ে কলকাতায় পা রাখছেন শাহ। আজই পরিষদীয় দলের বৈঠকের পর রাজভবনে গিয়ে সরকার গঠনের দাবি জানাবে বিজেপি। আগামী শনিবার, ২৫ বৈশাখ রবীন্দ্র জয়ন্তীর পুণ্যলগ্নে ব্রিগেডে শপথ নেবে বাংলার প্রথম বিজেপি সরকার, যেখানে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
বিজেপি সূত্রের খবর, নতুন মন্ত্রিসভা গঠনে উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষায় বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। উত্তরবঙ্গের বঞ্চনা ঘোচাতে সেখানের বিধায়কদের প্রথম সারিতে রাখা হবে। পাশাপাশি, তৃণমূলের হেভিওয়েট মন্ত্রীদের হারানো প্রার্থীদের বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানো শুভেন্দু অধিকারীর নাম তো আছেই, তালিকায় রয়েছেন দমদম উত্তরে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে হারানো সৌরভ শিকদার, টালিগঞ্জে অরূপ বিশ্বাসকে হারানো পাপিয়া অধিকারী এবং দিনহাটায় উদয়ন গুহকে হারানো অজয় রায়। এছাড়াও বিধাননগরে সুজিত বসুকে হারানো শারদ্বত মুখোপাধ্যায় এবং দমদমে ব্রাত্য বসুকে হারানো অরিজিৎ বক্সিও মন্ত্রিসভার দৌড়ে প্রথম সারিতে রয়েছেন।
দলের নিজস্ব অভিজ্ঞ মুখ এবং তারকা প্রার্থীদেরও বড় দায়িত্ব দিয়ে পুরস্কৃত করতে চায় গেরুয়া শিবির। এই তালিকায় দিলীপ ঘোষ, শঙ্কর ঘোষ, নিশীথ প্রামাণিক এবং অগ্নিমিত্রা পলের মতো নেতাদের নাম উঠে আসছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, নবান্নের নাম ও নীল-সাদা রং বদলে গেরুয়া করার প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। নবান্নের নতুন নাম হতে চলেছে ‘উন্নয়ন ভবন’, যেখানে কিছু গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর থাকবে। সব মিলিয়ে ২৫ বৈশাখ এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে তিলোত্তমা।