নিউজ ডেস্ক: বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে এক বেনজির সাংবিধানিক সংকটের মেঘ ঘনীভূত হলো। বিধানসভা নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পরও বুধবার সাংবাদিক সম্মেলন করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাফ জানিয়ে দিলেন, তিনি মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেবেন না। এই ঘোষণার পরেই রাজ্য প্রশাসনে তোলপাড় শুরু হয়েছে, কারণ আজ বুধবার মধ্যরাতেই বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ হচ্ছে।
সাংবাদিক সম্মেলনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অত্যন্ত আক্রমণাত্মক মেজাজে বলেন, “ষড়যন্ত্র করে ১০০টি আসন লুট করা হয়েছে। আমরা মানুষের ভোটে হারিনি। তাই পদত্যাগ করার প্রশ্নই ওঠে না, আমি রাজভবনে ইস্তফা দিতে যাব না। ওরা চাইলে সংবিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারে।” মমতার এই অবস্থানকে ‘সংবিধানদ্রোহিতা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র শেহজাদ পুনাওয়ালা। তাঁর দাবি, পরাজয় নিশ্চিত জেনেও ‘ভিকটিম কার্ড’ খেলছেন মমতা, কিন্তু সংবিধান অনুযায়ী ৭ মে তাঁর সদস্যপদ এমনিই খারিজ হয়ে যাবে।
এই পরিস্থিতিতে বিকল্প পথ খুঁজছে রাজভবন। সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতে, মুখ্যমন্ত্রী পদত্যাগ না করলে সংবিধানের ১৫৪ এবং ১৬৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রশাসনিক ক্ষমতা সরাসরি রাজ্যপালের হাতে চলে যাবে। অর্থাৎ, বিজেপি সরকারের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শপথ নেওয়ার আগে পর্যন্ত রাজ্যে কার্যকর হবে ‘গভর্নরস রুল’। এই অন্তর্বর্তী সময়ে দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজ পরিচালনার দায়িত্ব মুখ্যসচিবের ওপর ন্যস্ত করতে পারেন রাজ্যপাল।
আজ সকাল ১১টায় নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ২৯৩ জন জয়ী প্রার্থীর তালিকা রাজভবনে জমা দেওয়ার কথা। এরপরই সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে বিজেপিকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানাবেন রাজ্যপাল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই অনড় অবস্থান নতুন সরকারের শপথগ্রহণে আইনি বাধা তৈরি করতে পারবে না বলেই মনে করছে প্রশাসনিক মহল। তবে ক্ষমতা হস্তান্তরের এই নাটকীয় মোড় বাংলার রাজনীতিতে এক কলঙ্কিত অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে রইল।