রণক্ষেত্র স্বাস্থ্য ভবন! ব্যারিকেড ভেঙে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি, হকের দাবিতে রাজপথে লঙ্কাকাণ্ড আশাকর্মীদের

নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: টানা ২৯ দিন ধরে চলছে কর্মবিরতি। কিন্তু তাতেও টনক নড়েনি প্রশাসনের। শেষমেশ হকের দাবি আদায়ে বুধবার রাস্তায় নামলেন হাজার হাজার আশাকর্মী। আর তাঁদের এই ‘স্বাস্থ্য ভবন চলো’ অভিযান ঘিরে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিল সল্টলেক। পুলিশের ব্যারিকেড ভাঙা থেকে শুরু করে ধস্তাধস্তি—বিক্ষোভের জেরে উত্তপ্ত হয়ে উঠল সেক্টর ফাইভ চত্বর। একই ছবি দেখা গেল ধর্মতলা চত্বরেও। আশাকর্মীদের ঝাঁঝালো আন্দোলনে এদিন কার্যত স্তব্ধ হয়ে যায় শহরের একাংশ।

লড়াইয়ের মেজাজ, পুলিশের সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধ বুধবার সকাল থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে দলে দলে আশাকর্মীরা ভিড় জমাতে থাকেন শিয়ালদহ ও হাওড়া স্টেশনে। তাঁদের গন্তব্য ছিল সল্টলেকের স্বাস্থ্য ভবন। কিন্তু স্বাস্থ্য ভবনের অনেকটা আগেই পুলিশ বিশাল ব্যারিকেড দিয়ে মিছিল আটকে দেয়। আর তাতেই ধৈর্যের বাঁধ ভাঙে আন্দোলনকারীদের। ‘‘আমাদের দাবি মানতে হবে’’—স্লোগান তুলে ব্যারিকেড টপকানোর চেষ্টা করেন তাঁরা। পুলিশ বাধা দিতে গেলে বেধে যায় তুমুল ধস্তাধস্তি। বহু মহিলা আশাকর্মী পুলিশের সঙ্গে কার্যত খণ্ডযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন। পরিস্থিতি সামাল দিতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয় পুলিশবাহিনীকে।

কী তাঁদের দাবি? আন্দোলনকারীদের স্পষ্ট বক্তব্য, ‘‘আমরা দয়া চাইছি না, অধিকার চাইছি।’’ তাঁদের মূল দাবিগুলি হলো: ১. আশাকর্মীদের স্থায়ী বেতন বা সাম্মানিক নূন্যতম ১৫ হাজার টাকা করতে হবে। ২. অবিলম্বে সমস্ত বকেয়া টাকা মিটিয়ে দিতে হবে। ৩. স্থায়ীকরণের দাবি এবং কাজের সঠিক পরিকাঠামো।

বিক্ষোভরত এক আশাকর্মীর কথায়, ‘‘২৯ দিন ধরে আমরা কাজ বন্ধ রেখেছি। গ্রামে গ্রামে স্বাস্থ্য পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছে। সরকার সব জেনেও উদাসীন। পেটে ভাত না থাকলে আমরা কাজ করব কী করে? দাবি না মানা পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।’’

ধর্মতলাতেও বিক্ষোভের আঁচ সল্টলেকের পাশাপাশি আন্দোলনের আঁচ ছড়িয়ে পড়ে মধ্য কলকাতাতেও। শিয়ালদহ থেকে একটি বড় মিছিল ধর্মতলার দিকে এগোতে চাইলে নিউ মার্কেট থানার কাছে পুলিশ তাদের পথ আটকায়। সেখানেও পুলিশের সঙ্গে একপ্রস্ত ধস্তাধস্তি হয় আশাকর্মীদের। রাস্তায় বসে পড়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন তাঁরা।

শহরের গতি রুদ্ধ আশাকর্মীদের এই বিশাল জমায়েত এবং মিছিলের জেরে সপ্তাহের ব্যস্ত দিনেও বড়সড় প্রভাব পড়ে শহরের যান চলাচলে। বিক্ষোভের জেরে দীর্ঘক্ষণ অবরুদ্ধ হয়ে থাকে সল্টলেক, ইএম বাইপাস এবং এসএন ব্যানার্জি রোড। তবে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি হলেও নিজেদের দাবিতে অনড় বাংলার ‘দিদি’রা। তাঁদের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, অবিলম্বে দাবি না মানলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটবেন তাঁরা।

Share on Social Media

Related Posts

তৃণমূলের পার্টি অফিস ‘পুনরুদ্ধার’ করছে সিপিএম, রাজ্যে নয়া রাজনৈতিক সমীকরণ

নিউজ ডেস্ক: বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের রাজনৈতিক মানচিত্র দ্রুত বদলাতে শুরু করেছে।  অন্য এক ছবি ধরা পড়ছে বিভিন্ন জেলায়। তৃণমূলের হাতে হারানো নিজেদের পুরনো পার্টি…

Share on Social Media

এন্টালিতে তৃণমূল কর্মী খুন, উদ্ধার বস্তাবন্দি দেহ; নেপথ্যে গোষ্ঠীকোন্দল নাকি ব্যবসায়িক শত্রুতা?

নিউজ ডেস্ক: ভোট মিটলেও খাস কলকাতায় হিংসার দাপট থামছে না। এবার এন্টালিতে নৃশংস খুনের ঘটনা প্রকাশ্যে এল। বুধবার ভোরে এন্টালি থানা এলাকার রাধানাথ চৌধুরী রোডের একটি নির্মীয়মাণ আবাসনের সামনে থেকে…

Share on Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন

অবৈধ সম্পর্কের জেরে পাণ্ডুয়ায় মহিলা খুন, অভিযুক্ত প্রেমিক মেমারি থেকে গ্রেপ্তার

অবৈধ সম্পর্কের জেরে পাণ্ডুয়ায় মহিলা খুন, অভিযুক্ত প্রেমিক মেমারি থেকে গ্রেপ্তার

১৫ বছরের প্রতিজ্ঞা পূরণ! রাজ্যে বিজেপি আসতেই চুল কাটলেন বাগদার পঞ্চায়েত সদস্য

১৫ বছরের প্রতিজ্ঞা পূরণ! রাজ্যে বিজেপি আসতেই চুল কাটলেন বাগদার পঞ্চায়েত সদস্য

তৃণমূলের পার্টি অফিস ‘পুনরুদ্ধার’ করছে সিপিএম, রাজ্যে নয়া রাজনৈতিক সমীকরণ

তৃণমূলের পার্টি অফিস ‘পুনরুদ্ধার’ করছে সিপিএম, রাজ্যে নয়া রাজনৈতিক সমীকরণ

এন্টালিতে তৃণমূল কর্মী খুন, উদ্ধার বস্তাবন্দি দেহ; নেপথ্যে গোষ্ঠীকোন্দল নাকি ব্যবসায়িক শত্রুতা?

এন্টালিতে তৃণমূল কর্মী খুন, উদ্ধার বস্তাবন্দি দেহ; নেপথ্যে গোষ্ঠীকোন্দল নাকি ব্যবসায়িক শত্রুতা?

নবান্নের বিদায়বেলায় মিশ্র অনুভূতি হাওড়ায়: স্বস্তি ও অনিশ্চয়তার দোলাচলে বাসিন্দারা

নবান্নের বিদায়বেলায় মিশ্র অনুভূতি হাওড়ায়: স্বস্তি ও অনিশ্চয়তার দোলাচলে বাসিন্দারা

নবান্ন থেকে আবার ডালহৌসিতে ফিরছে ক্ষমতার অলিন্দ, রাইটার্স চত্বরে ব্যস্ততা তুঙ্গে

নবান্ন থেকে আবার ডালহৌসিতে ফিরছে ক্ষমতার অলিন্দ, রাইটার্স চত্বরে ব্যস্ততা তুঙ্গে
error: Content is protected !!

AdBlock

We rely on ads to maintain this site. Disabling your ad blocker helps us serve you better.