নিউজ ডেস্ক: পূর্ব মেদিনীপুরের শঙ্করপুরের সেই অভিশপ্ত ট্রলার ডুবির ঘটনায় নিখোঁজ মৎস্যজীবীদের খোঁজে ফের বঙ্গোপসাগরে বড়সড় তল্লাশি অভিযান শুরু করল দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসন ও ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনী (Indian Coast Guard)। দুর্ঘটনাস্থল ও তার আশপাশের উত্তাল সমুদ্রে নিখোঁজদের জীবিত পাওয়ার আশা ক্রমশ ক্ষীণ হলেও, স্বজনহারা পরিবারগুলির শেষ আশাটুকুকে আঁকড়ে ধরেই এই নতুন পর্বের ‘সার্চ ও উদ্ধার’ অভিযান শুরু করা হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, কোস্ট গার্ডের যৌথ তল্লাশি অভিযানের সুবিধার্থে রবিবার প্রশাসনের তরফে দুটি বিশেষ ট্রলার সমুদ্রে পাঠানো হয়েছে। তাদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সমুদ্রে নজরদারি চালাচ্ছে উপকূলরক্ষী বাহিনীর বিশাল জাহাজ। উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে সমুদ্র থেকে ১০ জন মৎস্যজীবীর নিথর দেহ উদ্ধারের পর প্রাথমিক তল্লাশি অভিযান স্থগিত রাখা হয়েছিল। কিন্তু সম্প্রতি কোস্ট গার্ডের তরফে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে দুটি ট্রলারের আবেদন জানানো হলে তড়িঘড়ি সম্মতি দেয় জেলা প্রশাসন। এর পরই পাথরপ্রতিমার গোবর্ধনপুর সংলগ্ন বাঘেরচর এলাকায় নতুন করে চিরুনি তল্লাশি শুরু হয়। এই বাঘের চরের কাছেই কিছুদিন আগে দুর্ঘটনাগ্রস্ত ট্রলারটিকে জলমগ্ন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছিল।
কোস্ট গার্ড ও জেলা প্রশাসনের আধিকারিকদের কথায়, বঙ্গোপসাগরের প্রবল জলোচ্ছ্বাস ও তীব্র সামুদ্রিক স্রোতের কারণে নিখোঁজ মৎস্যজীবীরা ঠিক কোন দিকে ভেসে গিয়েছেন, তা আগাম আন্দাজ করা অত্যন্ত কঠিন। তবুও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া ছাড়া দ্বিতীয় কোনো পথ নেই। নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি সমুদ্রমুখী অন্যান্য ট্রলারের মালিক ও মৎস্যজীবীদের সতর্ক করে বলা হয়েছে, গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়ার পথে ভেসে থাকা কোনো দেহ বা অস্বাভাবিক কিছু নজরে এলেই যেন দ্রুত প্রশাসনকে খবর দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, ইতিপূর্বে উদ্ধার হওয়া ১০ জন মৎস্যজীবীর দেহের ‘ডিএনএ’ (DNA) প্রোফাইলিং পরীক্ষার রিপোর্ট এখনও হাতে পৌঁছায়নি। মৃতদেহের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় শনাক্তকরণের সুবিধার্থেই এই বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা করা হচ্ছে। ফলে ফরেনসিক ও ডিএনএ রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত শোকস্তব্ধ পরিবারগুলির হাতে প্রিয়জনদের দেহ তুলে দিতে আরও কিছুটা সময় লাগবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।