নিউজ ডেস্ক: দাম্পত্য কলহের জেরে এবার প্রকাশ্যে রাজপথে তুলকালাম কাণ্ড! পরস্পরের বিরুদ্ধে পরকীয়ায় জড়িয়ে থাকার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ ঘিরে স্বামী-স্ত্রীর চরম বচসা, ধস্তাধস্তি এবং শেষমেশ রক্তাক্ত পরিণতি। বৃহস্পতিবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে হাবড়ার ব্যস্ততম জিরাট রোড এলাকায়। সংঘর্ষে গুরুতর জখম হয়ে বর্তমানে হাবড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন স্বামী। এই ঘটনায় উভয় পক্ষই স্থানীয় হাবড়া থানায় একে অপরের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কুমড়া পঞ্চায়েতের ছয়ঘরিয়ার বাসিন্দা আনন্দ দত্তের সঙ্গে প্রায় পাঁচ বছর আগে প্রেম করে বিয়ে হয়েছিল আনখোলার বাসিন্দা রানি বালার। তবে বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই তাঁদের সংসারে অশান্তি শুরু হয়। দু’জনেই পরস্পরের বিরুদ্ধে পরকীয়ায় লিপ্ত থাকার সন্দেহ করতে থাকেন। অশান্তি এড়াতে তাঁরা পরবর্তীতে ফুলতলায় একটি ঘর ভাড়া নিয়ে থাকতে শুরু করলেও সমস্যার সমাধান হয়নি।
অভিযোগ, বৃহস্পতিবার রাতে রানি আচমকাই হাবড়া জিরাট রোডে অবস্থিত আনন্দের দোকানে পৌঁছান। সেখানে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে বিবাদ চরম রূপ নেয় এবং তা রাস্তায় গড়ায়। রানির দাবি, প্রকাশ্য রাজপথে আনন্দ তাঁকে বেধড়ক মারধর করেন। চিৎকার শুনে স্থানীয় একটি ক্লাবের কয়েকজন যুবক বাধা দিতে এগিয়ে এলে আনন্দের সঙ্গে তাঁদেরও তুমুল বচসা ও হাতাহাতি বাঁধিয়া যায়। অভিযোগ, এরপরই ক্লাবের যুবকদের মারে আনন্দ গুরুতর জখম হন।
রানি দত্ত ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “আমার স্বামী আমাকে জোর করে পানশালায় কাজ করতে বাধ্য করেছিল। এখন আবার অন্য পুরুষের সঙ্গে সম্পর্কের মিথ্যা অভিযোগ তুলছে, অথচ ও নিজেরই একাধিক মহিলার সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে।” অন্যদিকে আনন্দর বাবার পাল্টা দাবি, তাঁর বউমা দীর্ঘদিন ধরেই পরকীয়ায় যুক্ত। পুরো ঘটনা খতিয়ে দেখে তদন্ত শুরু করেছে হাবড়া থানার পুলিশ।