নিউজ ডেস্ক: খাস কলকাতার তথ্যপ্রযুক্তি কেন্দ্র সল্টলেক সেক্টর ফাইভে দিনেদুপুরে ঘটে গেল দুর্ধর্ষ অপহরণের ঘটনা! ব্যস্ত অফিসপাড়ার রাস্তা থেকে এক যুবককে জোরপূর্বক মারধর করে চারচাকার গাড়িতে তুলে নিয়ে চম্পট দেয় চার দুষ্কৃতী। তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের তৎপরতা এবং পুলিশের তড়িৎ পদক্ষেপে শেষ পর্যন্ত বড়সড় সাফল্য মিলল। সিসিটিভি (CCTV) ক্যামেরার ফুটেজ সূত্র ধরে মাত্র ২ ঘণ্টার মধ্যে ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করে অপহৃত যুবককে উদ্ধার করল বিধাননগরের ইলেকট্রনিক্স কমপ্লেক্স থানার পুলিশ। গাড়িটি বাজেয়াপ্ত করার পাশাপাশি ভেতরে থাকা চার অভিযুক্তকে আটক করে রাতেই থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর, ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার বিকেল ৫টা নাগাদ সেক্টর ফাইভের একটি শপিং মলের সামনে। অপহৃত যুবক মলের পার্কিং জোন থেকে নিজের বাইক বের করার সময় চারজন ব্যক্তি এসে আচমকা তাঁর পথ আটকায়। চাবি কেড়ে নিয়ে বাইকটি ফের পার্কিংয়ে রাখতে বাধ্য করা হয়। এর পর তাদের একজন মোবাইলে যোগাযোগ করতেই একটি চারচাকার গাড়ি এসে হাজির হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই যুবককে ব্যাপক মারধর করার পর জোর করে টেনে-হিঁচড়ে গাড়িতে তুলে চম্পট দেয় দুষ্কৃতীরা। সঙ্গে সঙ্গেই স্থানীয়রা ইলেকট্রনিক্স কমপ্লেক্স থানায় খবর দেন।
খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় থানার আধিকারিকরা। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে ঘাতক গাড়িটিকে শনাক্ত করা হয় এবং বিধাননগর সহ সংলগ্ন সমস্ত থানা ও জেলা পুলিশকে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়। অন্যদিকে, পার্কিংয়ে ছেড়ে যাওয়া বাইকের নম্বর প্লেট থেকে অপহৃত যুবকের পরিচয় জানতে পারে পুলিশ। তদন্তে গতি আসতেই সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ নদীয়ার হরিণঘাটা থানা এলাকায় গাড়িটির দেখা মেলে। স্থানীয় পুলিশের সাহায্যে ইলেকট্রনিক্স কমপ্লেক্স থানার টিম গাড়িটিকে ঘিরে ফেলে এবং ভেতর থেকে অপহৃত যুবককে সুরক্ষিত অবস্থায় উদ্ধার করে।
বিধাননগর কমিশনারেটের এক শীর্ষ পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গিয়েছে যে অপহৃত যুবকের সঙ্গে অভিযুক্তদের বেশ কিছু টাকা-পয়সার লেনদেন সংক্রান্ত পুরনো ঝামেলা ছিল। বকেয়া টাকা আদায় করতেই পরিকল্পনা করে এই অপহরণ।