নিউজ ডেস্ক: গাড়ি চালকের ভুয়ো পরিচয়পত্র পেশ করে নামী বিপণির (Departmental Store) প্রচুর মূল্যবান মুদিখানা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী চুরির চাঞ্চল্যকর ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করল নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ। ধৃত ১৯ বছর বয়সি মূল অভিযুক্ত তরুণ ভুয়ো নথি জমা দিয়ে ওই গাড়িটির চালক হিসেবে ঢুকেছিল। পাশাপাশি চুরি যাওয়া সামগ্রী কেনাবেচায় যুক্ত থাকা এক চোরাই মালের কারবারিকেও (Receiver) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও ঘটনার বিবরণ থেকে জানা গিয়েছে, গত মার্চ মাসে হুগলির শ্রীরামপুর থেকে একটি কনটেইনার ভর্তি বিপুল পরিমাণ মুদিখানার সামগ্রী গড়িয়া এলাকার বিপণিতে নিয়ে আসা হচ্ছিল। অভিযোগ, গাড়ির আসল চালকের জায়গায় নিজের ভুয়ো পরিচয়পত্র দিয়ে চালক সেজে বসেছিল রোহিত সিং নামে ১৯ বছরের এক যুবক। হুগলি থেকে গাড়ি নিয়ে রওনা হয়ে নরেন্দ্রপুর থানার অন্তর্ভুক্ত পাটুলি এলাকায় পৌঁছলে পুরো গাড়িটি খালি করে ফেলে রোহিত ও তার দলবল। এরপর চোরাই সামগ্রী অন্যত্র সরিয়ে গড়িয়ার জলপোল এলাকায় খালি গাড়িটি ফেলে রেখে চম্পট দেয় দুষ্কৃতীরা।
বিপুল টাকার সামগ্রী চুরির বিষয়টি সামনে আসতেই নরেন্দ্রপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়। তদন্তে নেমে পুলিশ রোহিত সিং ও রাহুল মণ্ডল নামে দুই যুবকের সন্ধান পায়। সম্প্রতি এলাকাভিত্তিক টহলদারি চালানোর সময় নরেন্দ্রপুরের গঙ্গাজোয়ারা এলাকা থেকে রোহিতকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ধৃত রোহিতকে হেফাজতে নিয়ে টানা জেরার মুখে উদ্ধার হয় চোরাই পণ্যের গোপন ডেরা।
জেরায় রোহিত স্বীকার করে, চুরি করা সামগ্রী নরেন্দ্রপুর স্টেশন সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা বাসুদেব সর্দারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। বাসুদেব সেই চুরির মালামাল স্থানীয় একাধিক মুদি দোকানে বিক্রি করে দিয়েছিল। পুলিশি অভিযানে সেই চোর সরবরাহকারী বাসুদেব সর্দারকে ধরা হয়। পরে তার দেওয়া সূত্র ধরে পিয়ালি এলাকায় তার এক আত্মীয়ের বাড়িতে হানা দিয়ে বিপুল পরিমাণ চোরাই মুদি সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। তবে এই চক্রের অন্যতম সদস্য রাহুল এখনও পলাতক। পুলিশি রেকর্ডে জানা গিয়েছে, ধৃতদের নামে টালিগঞ্জ, বজবজ, এয়ারপোর্ট ও নরেন্দ্রপুর থানায় একাধিক চুরির পুরনো অভিযোগ রয়েছে।