নিউজ ডেস্ক: যে মানুষগুলো সারাক্ষণ পরম আদরে কোলে তুলে নিতেন, পিঠে হাত বুলিয়ে খাইয়ে দিতেন, তাঁদের একজন ঝুলছেন সিলিং ফ্যানে আর অন্যজন দু’হাতের শিরা কাটা অবস্থায় কাতরাচ্ছেন রক্তের সাগরে! নিউটাউনের চণ্ডীবেড়িয়ার ফ্ল্যাটে রবিবারের সেই অভিশপ্ত রাতে দুই লিভ-ইন পার্টনারের মর্মান্তিক পরিণতির নিরব সাক্ষী হয়ে রইল তাঁদেরই আদরের ছোট্ট পোষা বিড়ালটি। রক্তে থইথই দুই কামরার ফ্ল্যাটে থাবায় রক্ত মেখে অসহায়ভাবে ঘুরে বেড়ানো প্রাণীটিকে উদ্ধার করে শেষ পর্যন্ত ফ্ল্যাট মালিকের হাতে তুলে দিয়েছে নিউটাউন থানার পুলিশ। এক লহমায় আশ্রয় হারিয়ে মানসিক আঘাত পাওয়া প্রাণীটি মুখে খাবার পর্যন্ত তুলছে না বলে জানা গিয়েছে।
উল্লেখ্য, চণ্ডীবেড়িয়ার ওই ভাড়া ফ্ল্যাট থেকে বারাকপুরের বাসিন্দা তৃষা সাহা (২৫)-র ঝুলন্ত নিথর দেহ এবং নৈহাটির বাসিন্দা সৌভিক রায় (৩০)-র রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়। কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে সৌভিকের অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, বর্তমানে তাঁর অবস্থা কিছুটা স্থিতিশীল হলেও সংকট পুরোপুরি কাটেনি। সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়ার পর সৌভিককে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ স্পষ্ট হবে। পাশাপাশি তৃষার ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছেন তদন্তকারীরা।
তদন্তে নেমে ফ্ল্যাটের ভেতর একাধিক রহস্যময় সূত্র পেয়েছে পুলিশ। ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া তৃষার পায়ে রক্তের দাগ দেখতে পাওয়া যায়। প্রাথমিক অনুমান, দু’হাতের শিরা কাটার পর প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ অবস্থায় সৌভিক হয়তো তৃষার পা জড়িয়ে ধরার চেষ্টা করেছিলেন। তাছাড়া দুই কামরার ফ্ল্যাটের প্রতিটি ঘরেই মিলছে রক্তের ছাপ, যা থেকে অনুমান শিরা কাটার পর যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে সৌভিক দুটি ঘরেই ঘুরে বেরিয়েছিলেন। এই সম্পর্কের টানালেপোড়েনে তৃতীয় কোনো ব্যক্তির উপস্থিতি ছিল কি না, তা জানতে তৃষার মোবাইল ও ল্যাপটপ বাজেয়াপ্ত করে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছে পুলিশ।
সবচেয়ে মর্মান্তিক দৃশ্য তৈরি হয় বিড়ালটিকে ঘিরে। পুলিশ যখন রাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়, তখন পুরো মেঝেতে থইথই করছে রক্ত। আর থাবায় রক্ত মেখে এক কোণে স্তব্ধ হয়ে বসেছিল অবলা প্রাণীটি। পুলিশকর্মীরা পরম মমতায় তার পায়ের থাবা থেকে রক্ত ধুয়ে দেন এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা করার পাশাপাশি ফ্ল্যাট মালিককে অনুরোধ করেন যাতে আপাতত বিড়ালটির দেখভালে কোনো ত্রুটি না হয়। ভালোবাসার মানুষদের হারিয়ে বোবা প্রাণীটির এই করুণ পরিণতি নাড়িয়ে দিয়েছে তদন্তকারীদেরও।