নিউজ ডেস্ক: কাজের সূত্রে পরিচয়, তার পর চাকরি ছেড়ে দেওয়া সত্ত্বেও বাড়িতে চড়াও হয়ে লাগাতার ধর্ষণ ও নগ্ন ছবি ফাঁস করার ভয় দেখিয়ে ২০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠলো এক গ্রহরত্ন ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। নির্যাতিতা তরুণীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে দক্ষিণ কলকাতার লেক এলাকার বাসিন্দা তথা নামী গ্রহরত্ন ব্যবসায়ী শেখ আবিদকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। বেহালা থানার পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ধারায় ধর্ষণের মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে।
পুলিশ ও ঘটনার বিবরণ সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্যাতিতা তরুণী পূর্বে শেখ আবিদের লেক এলাকার গ্রহরত্ন বিক্রির সংস্থায় চাকরি করতেন। সেই সময় থেকেই আবিদ তাঁকে একাধিকবার কুপ্রস্তাব ও শারীরিক হেনস্থা করে বলে অভিযোগ। অতিষ্ঠ হয়ে তরুণী চাকরি ছেড়ে দেন এবং ২০২১ সালে নিজস্ব এক স্বাধীন ব্যবসা শুরু করেন। অভিযোগ, এর পরই ব্যবসায়ীর লোলুপ দৃষ্টি পড়ে তাঁর ওপর। একের পর এক হুমকি দিয়ে তরুণীর বেহালার বাড়িতে ঢুকে তাঁকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। সেই ধর্ষণের ফলে তরুণী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন এবং পরবর্তীতে একটি সন্তানের জন্ম দেন। নির্যাতিতার দাবি, অভিযুক্ত শেখ আবিদ তৎকালীন শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও প্রভাবশালী ব্যক্তি হওয়ার কারণে তিনি চরম ভয়ে এতদিন পুলিশে যাওয়ার সাহস দেখাননি।
ঘটনার এখানেই শেষ নয়। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে অভিযুক্ত আবার ওই তরুণীর বেহালার বাড়িতে চড়াও হয়ে পুনরায় শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্য চাপ সৃষ্টি করে। তরুণী সরাসরি প্রত্যাখ্যান করলে, অতীতে তোলা কিছু ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরালে করে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেল করা শুরু হয়। প্রাণভয়ে ও মানসম্মানের খাতিরে বাধ্য হয়ে ধাপে ধাপে অভিযুক্তকে ২০ লক্ষ টাকা তুলে দেন নির্যাতিতা। কিন্তু এতেও খিদের অন্ত হয়নি প্রতারকের; আরও অতিরিক্ত অর্থের দাবিতে অনড় থাকে শেখ আবিদ। গত ৩ জুলাই ফের তরুণীর বাড়িতে ঢুকে তাঁকে দ্বিতীয়বার ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
বারংবার এমন নির্মম শারীরিক ও মানসিক অত্যাচারে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ার পর, কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে গত ১৬ জুলাই বেহালা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ওই নির্যাতিতা। অভিযোগ দায়েরের খবর পেয়ে পুলিশ অ্যাকশনে যাওয়ার আগেই শেখ আবিদ ফের তরুণীর বাড়িতে চড়াও হয়ে তাঁকে প্রাণে মারার হুমকি দেয় বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে বেহালা থানার পুলিশ অভিযুক্ত শেখ আবিদকে গ্রেফতার করে। ইতিমধ্যেই নির্যাতিতা তরুণীর প্রয়োজনীয় শারীরিক ও বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে এবং তাঁর আইনজীবীর উপস্থিতিতে আইনি প্রক্রিয়া এগোচ্ছে।