নিউজ ডেস্ক: বৈবাহিক বিচ্ছেদের আইনি মামলা চলাই কাল! ব্যবসায়ী স্বামীর বিপুল কোটি টাকার সম্পত্তি একাই ভোগদখল করার লোভে বাংলাদেশি প্রেমিক তথা সাবেক গাড়িচালকের সঙ্গে হাত মিলিয়ে খুনের এক ভয়ঙ্কর ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করেছিলেন এক গৃহবধূ। এমনকি স্বামীকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিতে দেওয়া হয়েছিল বড় অঙ্কের সুপারিও। কিন্তু নাগেরবাজার থানার তৎপরতা ও পুলিশের নিখুঁত চালে শেষ মুহূর্তে ভেস্তে গেল সেই হাড়হিম করা চক্রান্ত। ঘটনার তদন্তে নেমে গৃহবধূর প্রেমিক তথা অন্যতম মূল অভিযুক্ত রবিউল সানাকে সোমবার রাতে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত রবিউলের মূল বাড়ি বাংলাদেশে। বেআইনিভাবে ভারতে অনুপ্রবেশের পর জাল নথি তৈরি করে এদেশে বসবাস করছিল সে। মঙ্গলবার তাকে বারাকপুর মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক তাকে ৭ দিনের পুলিশি হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। ঘটনার পর থেকেই পলাতক ওই চক্রান্তকারী গৃহবধূ ও সুপারি কিলার। তাঁদের খোঁজে জোরদার তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছে। বারাকপুর কমিশনারেটের পুলিশ কমিশনার অমিত কুমার সিং স্পষ্ট জানিয়েছেন, “ব্যবসায়ীকে খুনের এক গভীর ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। খুব দ্রুত বাকি দুই মূল অভিযুক্তকেও জালে তোলা হবে।”
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নাগেরবাজার থানার অর্জুনপুরের বাসিন্দা গোবিন্দ দাস পেশায় একজন পোশাক ব্যবসায়ী। ওই এলাকায় তাঁর নিজস্ব গেঞ্জির কারখানা রয়েছে। তাঁর স্ত্রীর নাম মানসী দাস। বেশ কিছুদিন ধরে গোবিন্দবাবুর গাড়িচালক হিসেবে কাজ করত অভিযুক্ত রবিউল সানা। বাংলাদেশে বাড়ি হলেও এ দেশে এসে নিমতার ফতুল্লাপুর ও মধ্যমগ্রামে ভাড়া থেকে দালাল মারফত জাল ভোটার ও আধার কার্ড তৈরি করে নিয়েছিল রবিউল। ড্রাইভার হিসেবে কাজ করার সুবাদে গৃহবধূ মানসীদেবীর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা বাড়ে এবং পরবর্তীতে তাঁদের মধ্যে পরকীয়া প্রেম গড়ে ওঠে। বছর দেড়েক আগে স্বামীকে না জানিয়ে বিপুল নগদ টাকা হাতিয়ে নিয়ে প্রেমিক রবিউলের সঙ্গে চম্পট দেন মানসীদেবী। এর পরই বারাকপুর আদালতে স্ত্রীর বিরুদ্ধে বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা দায়ের করেন গোবিন্দবাবু, যা এখনও বিচারাধীন।
অভিযোগ, গোবিন্দবাবুর আনুমানিক কয়েক কোটি টাকার সম্পত্তি রয়েছে। আইনি বিচ্ছেদের পর সেই সম্পত্তি হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় পুরো সম্পত্তি গ্রাস করতে স্বামীকে খুনের ষড়যন্ত্র করেন মানসীদেবী ও রবিউল। তার জন্য এক পেশাদার সুপারি কিলারকেও নিয়োগ করা হয়েছিল। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে নিজের কারখানার আশেপাশে অপরিচিত বহিরাগত যুবকদের ঘোরাঘুরি করতে দেখে সন্দেহ হয় ব্যবসায়ী গোবিন্দবাবুর। প্রাণভয়ে তিনি দ্রুত নাগেরবাজার থানায় গিয়ে নিজের আশঙ্কার কথা জানান। খবর পেয়েই নাগেরবাজার থানার ওসি সুমিত কুমার বৈদ্যের নেতৃত্বে পুলিশের বিশেষ টিম এলাকা নজরদারিতে মোতায়েন করে।
গোপন সোর্স মারফত পুলিশ খবর পায় যে চলতি সপ্তাহেই ব্যবসায়ীর ওপর বড়সড় প্রাণঘাতী হামলা হতে পারে। আর দেরি না করে সোমবার রাতে যশোর রোড সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ফাঁদ পেতে গোবিন্দবাবুর সাবেক চালক রবিউলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ধৃত রবিউল প্রাথমিক জেরাতেই খুনের মারাত্মক চক্রান্তের কথা স্বীকার করে নিয়েছে। তবে মূল চক্রান্তকারী মানসীদেবী এবং ভাড়াটে সুপারি কিলারকে ইতিপূর্বে চিহ্নিত করা গেলেও তারা বর্তমানে গা-ঢাকা দিয়েছে। তাদের ডেরায় পৌঁছাতে অভিযান চালাচ্ছেন নাগেরবাজার থানার তদন্তকারীরা।