নিউজ ডেস্ক: দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপের সুন্দরবন আদর্শ বিদ্যামন্দিরের ঠিক পেছনে নোনামাঠ সংলগ্ন এলাকার গুরুত্বপূর্ণ কাঠের সেতুটি বর্তমানে এক ভয়াবহ মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। চরম বিপজ্জনক অবস্থায় থাকা এই সেতুটির মাঝের অংশের কাঠ ও তক্তা ভেঙে গিয়ে বিশালাকার গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সেতুটির এই কঙ্কালসার চেহারার জেরে প্রতিদিন দুর্ঘটনার কবলে পড়ছেন সাধারণ মানুষ, অথচ এই বিষয়ে স্থানীয় পঞ্চায়েত বা প্রশাসনের কোনো হেলদোল নেই বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
জানা গিয়েছে, শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার অন্তর্গত এই সেতুটির ওপর দিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। এছাড়া সুন্দরবন আদর্শ বিদ্যামন্দির সহ সংলগ্ন একাধিক বিদ্যালয়ের বহু পড়ুয়া প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই সেতু পেরিয়ে স্কুলে যায়। নিত্যযাত্রীদের পাশাপাশি এই জরাজীর্ণ সেতুর উপর দিয়ে ছোটখাট যানবাহনও যাতায়াত করে, যা দুর্ঘটনার আশঙ্কা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, দীর্ঘদিন ধরে সেতুটি রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বেহাল হয়ে পড়েছিল। সম্প্রতি মাঝের তক্তা ভেঙে যাওয়ায় এক বিশাল গর্ত তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে রাতে ওই এলাকা ঘুটঘুটে অন্ধকারে ডুবে থাকায়, অনেকেই সেই গর্তে পা ঢুকে গিয়ে পড়ে যাচ্ছেন এবং গুরুতর জখম হচ্ছেন।
এবিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা নারায়ণ দাস ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “ওই সেতুর উপর দিয়ে যাতায়াত করার সময় একটু অন্যমনস্ক হলেই যে কেউ বড় দুর্ঘটনার শিকার হতে পারেন। কয়েকদিন আগেও এক বয়স্ক মানুষ সেই গর্তে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন। বিষয়টি স্থানীয় পঞ্চায়েত এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তরে একাধিকবার জানানো হয়েছে। তা সত্ত্বেও আজ পর্যন্ত কোনো সুরাহা হয়নি।”
অবশেষে প্রশাসনের ঘুম ভাঙার ইঙ্গিত মিলেছে। এই বিপজ্জনক সেতু প্রসঙ্গে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আধিকারিক জানান, “ঘটনাটি আগে আমাদের জানা ছিল না। তবে খবর পেয়ে দ্রুত খোঁজ নিয়ে দেখছি। যদি সেতুটি সত্যিই ভেঙে গিয়ে থাকে এবং বিপজ্জনক হয়, তাহলে শীঘ্রই মেরামতের ব্যবস্থা করা হবে।” এখন দেখার, কত দ্রুত এই মরণফাঁদ মেরামত করে স্থানীয়দের স্বস্তি দেয় প্রশাসন।