নিউজ ডেস্ক: শোকের ছায়া কাটেনি বহরমপুরের কর্ণসুবর্ণের গোবিন্দপুর গ্রামে। তার মাঝেই চার জন নিহত শিশুর পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সশরীরে পৌঁছে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। গত শুক্রবার ট্রেন ও পুলকারের মর্মান্তিক সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছিল গ্রামের চার খুদে— জেসিকা, তামান্না, ফারহানা ও ইসানুর। প্রাণ হারান এক সাইকেল আরোহীও। বৃহস্পতিবার গ্রামে পৌঁছে সভা মঞ্চে ওঠার আগেই সোজা সন্তানহারা বাবা-মায়ের কাছে ছুটে যান মুখ্যমন্ত্রী। স্বজনহারাদের সমবেদনা জানাতে গিয়ে একপর্যায়ে কেঁদে ফেলেন তিনি। চোখের জল মুছতে মুছতে নিহতদের পরিবারকে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা জানান মুখ্যমন্ত্রী।

এদিনের সভা থেকে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মৃতদের পরিবারপিছু ৫ লক্ষ টাকা এবং জখমদের জন্য ১ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের সহায়তার চেক তুলে দেওয়া হয়। মুখ্যমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে স্বজনহারারা স্থায়ী চাকরির আর্জিও জানান। তাঁদের আশ্বস্ত করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ছোট ফুলের মতো শিশুরা যেভাবে অকালে ঝরে গেল, তার দুঃখপ্রকাশের কোনো ভাষা আমার কাছে নেই। এই পরম ক্ষতি অর্থ দিয়ে পূরণ করা সম্ভব নয়, তবে একটি মানবিক সরকারের দায়িত্ব হিসেবেই আমরা পাশে দাঁড়িয়েছি।” তিনি স্পষ্ট জানান, প্রচারের উদ্দেশ্যে তিনি যাননি। পরিবারগুলির অন্যান্য প্রয়োজন ও স্থানীয় কাজের ব্যবস্থার দায়িত্ব জেলা শাসক (DM) এবং পুলিশ সুপার (SP)-কে দিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সূত্রের খবর, ক্ষতিগ্রস্ত পরিযায়ী শ্রমিকের পরিবারগুলিকে সিভিক ভলান্টিয়ারের কাজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন।

দুর্ঘটনায় অভিযুক্ত গেটম্যানের কঠোর থেকে কঠোরতম শাস্তির নির্দেশ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি চাই দ্রুত তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ করে দোষীর ‘ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট’ নিশ্চিত করা হোক।” সভা শেষে তিনি সোজা চলে যান মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে, সেখানে চিকিৎসাধীন জখম ছাত্রী অনিশা খাতুনকে দেখতে এবং তার চিকিৎসার খোঁজখবর নিতে।

Share on Social Media