নিউজ ডেস্ক: কাজের জায়গায় চরম অশান্তি ও পারস্পরিক বিবাদের জেরে বিএসএফের (BSF) অভ্যন্তরীণ লড়াইয়ে ঝরল রক্ত! সহকর্মীর বন্দুক থেকে ছোড়া অন্ধি-সন্ধি গুলিতে মর্মান্তিক মৃত্যু হলো দুই বিএসএফ জওয়ানের। এলোপাথাড়ি গুলিতে গুরুতর জখম হয়েছেন আরও এক জওয়ান। বৃহস্পতিবার বিকেলে চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে মালদহের বৈষ্ণবনগর থানার অন্তর্গত বিএসএফ-এর ১১৯ এবং ৭১ নম্বর ব্যাটালিয়নের যৌথ হেডকোয়ার্টার ক্যাম্পে। পুলিশ ও বিএসএফ সূত্রের খবর, ঘটনায় অভিযুক্ত মূল জওয়ানকে আটক করা হয়েছে।

নিহত জওয়ানদের নাম অজয় কুমার সিং (৫১) এবং আম্বদর সুরেশ দরগু (৩৭)। অজয়বাবুর বাড়ি বিহারের ছাপরা জেলার মানঝিতে এবং সুরেশবাবুর বাড়ি মহারাষ্ট্রের গড়চিরৌলিতে। তাঁরা দু’জনেই বিএসএফের ৭১ নম্বর ব্যাটালিয়নের কর্মরত সদস্য ছিলেন। অন্যদিকে, গুলিতে গুরুতর আহত অপর জওয়ান বিকাশ ব্রহ্ম বর্তমানে চিকিৎসাধীন। তাঁর বাড়ি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার মহানাদ গ্রামে। ঘটনাটির রূপকার হিসেবে উঠে এসেছে ১১৯ নম্বর ব্যাটালিয়নের জওয়ান শিবম মিশ্রর নাম, যার বাড়ি ছত্তিশগড়ে।

ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে মালদহের পুলিশ সুপার অনুপম সিং জানান, “ক্যাম্পের অন্দরে অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ প্রশাসন ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে।” তদন্তকারী সূত্রে উঠে এসেছে শিহরিত তথ্য। জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত জওয়ান শিবম মিশ্রর মানসিক ও অপরাধমূলক অতীত রয়েছে। গত বছরও ডিউটিতে থাকাকালীন নিজের সার্ভিস রাইফেল থেকে গুলি চালিয়ে এক সহকর্মীকে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছিল তার বিরুদ্ধে। সেই পুরোনো মামলার বিভাগীয় তদন্তের স্বার্থেই বিএসএফ সম্প্রতি তাকে নিজস্ব হেফাজতে এনে বৈষ্ণবনগর ক্যাম্পের প্রিজনার সেলে (Prisoner Cell) রেখেছিল।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বন্দি শিবম বাথরুমে যাওয়ার বাহানা করে। সেই সময় পাহারায় ছিলেন জওয়ান আম্বদর সুরেশ। শিবম বাথরুমে যাওয়ার পথে হঠাৎই আম্বদরের ওপর চড়াও হয় এবং তাঁর হাত থেকে সার্ভিস ইনসাস রাইফেলটি ছিনিয়ে নেয়। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই রাইফেল নিয়ে এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে সে। বুলেটের আঘাত সোজা গিয়ে লাগে সুরেশ, অজয় ও বিকাশের শরীরে। রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তাঁরা। দ্রুত তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা সুরেশ ও অজয়কে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পুরো ক্যাম্প জুড়ে বর্তমানে থমথমে পরিবেশ বজায় রয়েছে।

Share on Social Media