নিউজ ডেস্ক: মহান স্বাধীনতা সংগ্রামী দেশনায়ক নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু সম্পর্কে অসত্য, ভিত্তিহীন ও চরম অপমানজনক মন্তব্য করার অভিযোগে তীব্র বিতর্কে জড়ালেন দ্য গ্রেটার কোচবিহার পিপলস অ্যাসোসিয়েশনের নেতা তথা রাজ্যসভার বিজেপি সাংসদ নগেন রায় ওরফে অনন্ত মহারাজ। নাম না করে তাঁর এই আপত্তিকর মন্তব্যের বিরুদ্ধে এবার গর্জে উঠলেন উত্তরবঙ্গের রাজবংশী সমাজের অত্যন্ত সম্মানীয় ও বিদগ্ধজনেরা। সম্প্রতি পদ্মশ্রী প্রাপ্ত বিশিষ্ট বিজ্ঞানী ডঃ মহেন্দ্রনাথ রায়, প্রবীণ শিক্ষাবিদ নিখিলচন্দ্র রায়, পদ্মশ্রী জয়ী কবি নগেন্দ্রনাথ রায়, জলপাইগুড়ির সাংসদ ডঃ জয়ন্ত রায় এবং ‘দি গ্রেটার কোচবিহার ক্ষত্রিয় সোসাইটি’র সভাপতি অন্নময়ী অধিকারীসহ মোট ১১ জন গুণীজন একযোগে যৌথ প্রতিবাদ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন। এই কড়া প্রতিবাদ বার্তা সামনে আসতেই সমগ্র উত্তরবঙ্গ জুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
প্রতিবাদীরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইতিহাস না জেনে এবং সঠিক তথ্য ছাড়া নেতাজির মতো সর্বজনশ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। যৌথ প্রতিবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সর্বসম্মতভাবে স্বাক্ষর করার পর সেটি জলপাইগুড়ির বিজেপি সাংসদ জয়ন্ত রায়ের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, দিনকয়েক আগে অনন্ত মহারাজ প্রকাশ্য জনসভা এবং পরবর্তীতে দিল্লিতে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নেতাজির ভূমিকা নিয়ে আপত্তিকর ও বিকৃত মন্তব্য করেছিলেন। বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে তাঁকে একাধিকবার ফোন ও মেসেজ করা হলেও তাঁর তরফ থেকে কোনো উত্তর মেলেনি।
প্রতিবাদী বয়ানে সরব হয়ে আলিপুরদুয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য তথা পদ্মশ্রী সম্মানপ্রাপ্ত বিজ্ঞানী মহেন্দ্রনাথ রায় বলেন, “নেতাজির মতো মহান ব্যক্তিত্বের ইতিহাস বিকৃতি কোনো সচেতন নাগরিক মেনে নিতে পারে না। এই ধরনের কুরুচিকর মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা জানাতেই আমরা যৌথ বিবৃতি দিয়েছি এবং সাংসদের হাতে তা তুলে দিয়েছি।” অন্যদিকে, জলপাইগুড়ির সাংসদ ডঃ জয়ন্ত রায় মন্তব্য করেন, “নেতাজি জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন। তাঁর সম্পর্কে অর্বাচীনের মতো কথা যারা বলবে, আমরা সর্বদা তাদের বিরুদ্ধে দাঁড়াব। এর আগে ঠাকুর পঞ্চানন বর্মাকে নিয়েও উনি বিরূপ মন্তব্য করেছিলেন, যা অত্যন্ত ক্ষোভের।”
একই সুর শোনা গিয়েছে পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য নিখিলচন্দ্র রায়ের গলাতেও। তিনি বলেন, “নগেন রায় সমাজের এক দায়িত্বশীল পদে রয়েছেন, তাঁর থেকে এমন অনভিপ্রেত মন্তব্য একেবারেই অপ্রত্যাশিত। তবে মনে রাখতে হবে, তিনি যখন এই মন্তব্য করেন তখন সমগ্র রাজবংশী সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে করেন না। তাই নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্যের জন্য পুরো রাজবংশী সমাজকে দায়ী করা ভুল। এই ধরনের মন্তব্যের বিরুদ্ধে সর্বস্তরের মানুষের প্রতিবাদ করা উচিত।”