নিউজ ডেস্ক: আভিজাত্য ও আধুনিক জীবনযাত্রার আড়ালে অন্ধকার জগৎ! ‘রেভ পার্টি’ (Rave Party), মদ, বিপজ্জনক ড্রাগস এবং অবশেষে সহপাঠীকে ধর্ষণের নির্মম শিকার এক নাবালিকা। মর্মান্তিক এই ঘটনার জেরে এবার খবরের শিরোনামে কলকাতার পূর্ব যাদবপুর থানা এলাকার মুকুন্দপুর। এই ঘটনায় পকসো (POCSO) এবং ধর্ষণের ধারায় মামলা রুজু করে অত্যন্ত ধনাঢ্য পরিবারের এক নাবালককে আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্যাতিতা নাবালিকা এবং অভিযুক্ত নাবালক কলকাতার একটি নামী ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের সহপাঠী। সহপাঠীদের নিয়ে তারা একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ তৈরি করেছিল। সেই গ্রুপেই প্রথম প্রস্তাব ওঠে সারাদিনের একটি ‘রেভ পার্টি’ করার। পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত ১৮ জুলাই মুকুন্দপুরের একটি বহুতল আবাসন বা ফ্ল্যাট অনলাইনে সারাদিনের জন্য ভাড়া নেওয়া হয়। বেলা ১টা বাজতেই সেখানে উপস্থিত হয় মোট ৭ জন নাবালক এবং ২ জন নাবালিকা।
অনলাইনেই অর্ডার করে আনানো হয়েছিল মদ ও প্রাণঘাতী ‘পার্টি ড্রাগস’। অভিযোগ, কোল্ড ড্রিঙ্কসের সঙ্গে মদ ও মাদক মিশিয়ে সেবন করার পাশাপাশি উচ্চশব্দে গানবাজনা ও নাচ চলছিল। অতিরিক্ত নেশার প্রভাবে এক নাবালিকা অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে পাশের ঘরে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর বিকেল চারটে নাগাদ কয়েকজন সেখান থেকে বেরিয়ে গেলেও পরবর্তীতে তারা আবার ক্যাব নিয়ে ফ্ল্যাটে ফিরে আসে।
নির্যাতিতা নাবালিকার লিখিত অভিযোগ, তাকে জোর করে দ্বিতীয়বার মাদক মেশানো পানীয় খাওয়ানো হয়। নেশায় সম্পূর্ণ অচৈতন্য হয়ে পড়ার পর রাত ৮টা নাগাদ তার এক সহপাঠী নাবালক তাকে যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণ করে। শুধু তাই নয়, আপত্তিকর অবস্থায় গোপন ভিডিও পর্যন্ত তৈরি করে রাখা হয়। রাতে কিছুটা স্বাভাবিক হলে মেয়েটি ক্যাব ধরে গল্ফগ্রিনের বাড়িতে ফিরে পরিবারকে পুরো বিষয়টি খুলে বলে। গল্ফগ্রিন থানায় প্রথমে বিষয়টি জানানো হলে তারা ‘জিরো এফআইআর’ (Zero FIR) করে মামলাটি ঘটনার স্থান পূর্ব যাদবপুর থানায় পাঠিয়ে দেয়।
অভিযোগ পেতেই দ্রুত পদক্ষেপ করে পূর্ব যাদবপুর থানার পুলিশ অভিযুক্ত নাবালককে আটক করেছে। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, ওই হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের সদস্যরা এর আগেও এমন রেভ পার্টির আয়োজন করেছিল। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, পূর্বপরিকল্পিতভাবেই ওই নাবালিকাকে যৌন হেনস্তা করার লক্ষ্য ছিল। আদালতের মাধ্যমে নির্যাতিতার গোপন জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, কোথা থেকে অনলাইনে এই বিপজ্জনক ‘পার্টি ড্রাগস’ সরবরাহ করা হয়েছিল, তা জানতে মূল মাদক পাচারকারীর খোঁজে জোর তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।