নিউজ ডেস্ক: নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর মাত্র আড়াই মাসেই রাজ্যের রাজস্ব আদায়ে বড়সড় সাফল্য। মে থেকে জুলাইয়ের মাঝামাঝি পর্যন্ত গত বছরের তুলনায় চলতি বছর রাজস্ব আদায় বেড়েছে প্রায় ১৫ শতাংশ। শুক্রবার মার্চেন্টস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (MCCI) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই পরিসংখ্যান তুলে ধরেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। একই সাথে রাজ্যে শিল্পবান্ধব পরিবেশ তৈরি ও রাজস্ব বাড়ানোর একাধিক পদক্ষেপের কথা জানান তিনি।
তোলাবাজি প্রসঙ্গে ক্ষোভ ও বাস্তবতা স্বীকার করে অর্থমন্ত্রী বলেন, “পূর্বতন সরকারের জমানায় যে তোলাবাজির সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল, তা আড়াই মাসে সম্পূর্ণ নির্মূল করা সম্ভব নয়। তবে কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপের ফলে তা অনেকটাই কমানো সম্ভব হয়েছে। সরকার কোনো রাতারাতি অলৌকিক কিছু ঘটাতে পারে না, তবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের কড়া বার্তা দেওয়া হয়ে গিয়েছে। আগামী দিনে তোলাবাজি পুরোপুরি বন্ধ হবে।”
কর ব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে অর্থমন্ত্রী জানান, করের হার না বাড়িয়ে কর ফাঁকির পথগুলি বন্ধ করা এবং রাজস্ব আদায়ের দক্ষতা বাড়ানোই তাঁদের মূল লক্ষ্য। রাজ্যকে দেউলিয়া দশা ও বিপুল দেনার হাত থেকে বাঁচাতে এটাই প্রধান হাতিয়ার। সেই সঙ্গে সিঙ্গুর প্রসঙ্গ টেনে স্বপনবাবু আক্ষেপের সঙ্গে বলেন, “সিঙ্গুরের ঘটনা এ রাজ্যের শিল্প ভাবমূর্তির ওপর এক বিরাট কলঙ্ক। সেই নেতিবাচক ভাবমূর্তি কাটিয়ে নতুন বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে কিছুটা সময় লাগবে। তবে নতুন সরকারের ওপর শিল্প মহলের ট্রাস্ট ফ্যাক্টর ইতিবাচক ভূমিকা নেবে।”
এদিনের অনুষ্ঠানে শিল্পপতিদের তরফ থেকে রাজ্যে বিদ্যুতের চড়া মাশুল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হলে, অর্থমন্ত্রী সেই অভিযোগ মেনে নেন। তিনি স্বীকার করেন, দেশের মধ্যে যেসব রাজ্যে বিদ্যুতের দাম সবচেয়ে বেশি, পশ্চিমবঙ্গ তার অন্যতম। বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার পরিষেবা নিয়ে অসন্তোষ থাকলে ক্ষেত্রে একচেটিয়া বাজার ভেঙে অন্য বেসরকারি সংস্থাকে সুযোগ করে দেওয়ার ইঙ্গিত দেন তিনি। পাশাপাশি এআই (AI) এবং আধুনিক প্রযুক্তিভিত্তিক সংস্থাকে রাজ্যে আনতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান অর্থমন্ত্রী।