নিউজ ডেস্ক: রঙিন ব্যানার, নতুন স্লোগান আর অনুশাসন নিয়ে শুরু হওয়া বামপন্থী ছাত্র-যুবদের মিছিল শেষে গড়াল চরম রক্তক্ষয়ী তাণ্ডবে। ধর্মতলায় দীর্ঘক্ষণ অবস্থানের পর আচমকাই ছন্দপতন ঘটে আন্দোলনের। আচমকা আন্দোলনকারীদের একাংশ সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের ওপর চড়াও হন। বাদ যাননি কর্মরত মহিলা সাংবাদিকরাও। আন্দোলনকারীদের হামলায় একাধিক টেলিভিশন চ্যানেলের সাংবাদিক রক্তাক্ত হন। পরিস্থিতির অবনতি ঘটে যখন পুলিশ হস্তক্ষেপ করতে এলে তাঁদের লক্ষ্য করেও জুতো, জল ভর্তি বোতল ও লাঠি ছোঁড়া হয়। পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দিতে লাঠি উঁচিয়ে তাড়া করে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। এই ঘটনায় বেশ কয়েকজন সাংবাদিক গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
বৃহস্পতিবার রাতেই আহত সাংবাদিকদের দেখতে হাসপাতালে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখান থেকে কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভের ওপর এমন আক্রমণ কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। হামলাকারীদের চিহ্নিত করে চরম কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে, কাউকেই রেয়াত করা হবে না।” একই সঙ্গে তিনি ঘোষণা করেন, এই তাণ্ডবের প্রতিবাদে আগামী সোমবার ঠিক একই রুটে বিজেপির ছাত্র-যুবরা একটি প্রতিবাদ মিছিলে শামিল হবে। যার নেতৃত্বে থাকবেন তাপস রায়, রিতেশ তেওয়ারি এবং তমোঘ্ন ঘোষ।
সাংবাদিকদের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে প্রেস ক্লাব, কলকাতা। প্রেস ক্লাবের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানানো হয়, “আন্দোলনের আড়ালে এভাবে বেছে বেছে রিপোর্টার ও চিত্রগ্রাহকদের টার্গেট করা এক অত্যন্ত বিপজ্জনক প্রবণতা।” অবিলম্বে অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনানুগ শাস্তির দাবি জানিয়েছে তারা। অন্যদিকে, ঘটনার দায় এড়িয়ে এসএফআই (SFI) রাজ্য সম্পাদক দেবাঞ্জন দে পাল্টা অভিযোগ তুলে ধরে বলেন, “বামপন্থীদের এই আন্দোলনকে ভেস্তে দিতে বিজেপির উসকানিমূলক উপাদান মিছিলে ঢুকে এই অশান্তি পাকিয়েছে। তবে আমরা আক্রান্ত সাংবাদিকদের প্রতি পূর্ণ সমবেদনা জানাচ্ছি।”