জানুয়ারি ২৩, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত:
মধ্যমগ্রামে ফের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। বৃহস্পতিবার দুপুরে মধ্যমগ্রাম পুরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের দিগবেড়িয়ার দ্বিতীয় সরণীতে একটি রং তৈরির কারখানার রাসায়নিক গোডাউনে বিধ্বংসী আগুন লাগে। দমকলের সাতটি ইঞ্জিন প্রায় তিন ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রাথমিকভাবে শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত বলে অনুমান দমকলের।
ঘটনাস্থলে বিপুল পরিমাণ দাহ্য রাসায়নিক মজুত থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। গোডাউন মালিক পবন কেরিয়ার দুটি গোডাউনের মধ্যে একটিতে প্রায় ৭০টি ড্রাম এবং অন্যটিতে ২০০ লিটার রাসায়নিক মজুত ছিল। এই রাসায়নিক দিয়েই পাশের কারখানায় রং তৈরি করা হয়। তৈরি রং সংরক্ষণ করা হত অন্য গোডাউনে।
দুপুর তিনটে নাগাদ হঠাৎ গোডাউন থেকে আগুন ও ঘন ধোঁয়া বেরোতে শুরু করে। সেই সময় ভিতরে থাকা তিন শ্রমিক কোনওরকমে বাইরে বেরিয়ে এসে প্রাণে বাঁচেন। তবে বিপুল রাসায়নিক থাকার ফলে আগুন নেভাতে কার্যত হিমশিম খেতে হয় দমকলকে।
স্থানীয় বাসিন্দা ওয়াহাব মণ্ডল ও সাবির আলির অভিযোগ, ছ’ বছর আগেও এই কারখানায় আগুন লেগেছিল। কিন্তু তাতেও কোনও শিক্ষা নেয়নি কর্তৃপক্ষ। তাঁদের দাবি, অগ্নি নির্বাপণের উপযুক্ত পরিকাঠামো না থাকায় বড়সড় বিপর্যয় ঘটতে পারত।
দমকল বিভাগের আধিকারিক অরিজিৎ ঘোষ জানান, আগুন লাগার সঠিক কারণ জানতে পুলিশের সঙ্গে যৌথভাবে তদন্ত করা হবে। মধ্যমগ্রাম পুরসভার চেয়ারম্যান নিমাই ঘোষ বলেন, “কারখানা মালিককে ডাকা হয়েছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র খতিয়ে দেখে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
কারখানার ইনচার্জ তপন চট্টোপাধ্যায় জানান, হঠাৎই আগুন লাগে। তিনি বাইরে ছিলেন এবং ভিতরে থাকা কর্মীরা দৌড়ে পালিয়ে যান। তিনি স্বীকার করেন, আগেও এই কারখানায় আগুন লেগেছিল এবং একজন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছিল।
প্রসঙ্গত, ২০২০ সালে এই একই কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়। সেই সময় দমকল ও পুলিশ কারখানার ভিতরে জলের রিজার্ভার তৈরির নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু পুলিশের দাবি, গত ছ’ বছরেও সেই নির্দেশ কার্যকর করেনি কর্তৃপক্ষ। ফলে ফের এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘিরে প্রশ্নের মুখে কারখানা মালিকপক্ষের দায়িত্বজ্ঞান।